মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

১৬-১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রাইম ডেস্ক :

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কোনো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। রোহিঙ্গা নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নাই। মিয়ানমারে তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেত না। প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ হাজার নারী গর্ভবতী।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, এ পর্যন্ত প্রশিক্ষিত নার্স ও মিডওয়াইফারদের হাতে ১৭৩টি নরমাল ডেলিভরির মাধ্যম রাহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের দিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে তিন ধরণের (কনডম, খাবার বড়ি ও তিন মাসমেয়াদী ইনজেকশন) জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেড় লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে ৫৬ হাজার শরণার্থীকে এমআর টিকা, ২০ হাজার জনকে বিওপিভি এবং ১৫ হাজার জনকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ১২টি স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্পে ৩৬টি টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, মাত্র ১ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দিতে ইউরোপ সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দিয়েছিল। অথচ মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়, সেবা ও খাদ্য সরবরাহ করছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের ৫০ শয্যার হাসপাতালে আরো ৫০টি করে অস্থায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। তাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অধীনস্থ সব সংস্থার চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনে বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ দুই ঘণ্টা বেশি খোলা থাকবে বলেও মন্ত্রী জানান। ওইদিন দুপুর ২টার স্থলে বর্হিবিভাগ খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এএইচএম এনায়েত হোসেন বলেন, প্রায় এক মাসে গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের ক্ষতসহ নানাভাবে আঘাত পাওয়া দুই হাজার ৩৬৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডায়রিয়ায় ৩ হাজার ৫২০ জন, চর্মরোগে দুই হাজার ৩৩৫ জন ও শ্বাসনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত সাত হাজার ৯৬৯ জন রোহিঙ্গা চিকিত্সা নিয়েছে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮টি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার ১৪টি, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার ৯টি ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শরণার্থীদের জন্য নবনির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে ১২টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যেগুলোর প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পরিদর্শকসহ চিকিৎসক, নার্স, ধাত্রী ও প্যারামেডিক থাকবে।

এসময় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.