শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে অতিথি ১০ দেশের সরকার প্রধান

প্রাইম আন্তর্জাতিক  :

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান এবং কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ভারতের ৬৯তম প্রজাতন্ত্র দিবস। নয়াদিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে ভারতের সামরিক শক্তির পাশাপাশি সংস্কৃতি এবং উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। সাধারণত প্রতি বছর একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়। তবে এই বছর একইসঙ্গে দশজন রাষ্ট্রনেতাকে অতিথি করা হয়েছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস এবং ব্রুনেই’য়ের রাষ্ট্রপ্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবেই। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড শুরু হয় এই দশটি রাষ্ট্রের পতাকার সমাহারে। ভারতীয় সেনাদের হাতে ছিল ওই দশ রাষ্ট্রের পতাকা।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের শুরুতে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে অমর জওয়ান জ্যোতিতে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর এই বছরই তাঁর প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নানা ধর্ম, বর্ণ এবং সম্প্রদায় সত্ত্বেও সংবিধান মেনেই সমস্ত দেশবাসীর একে অপরের সঙ্গে মৈত্রী এবং একতার সম্পর্কে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই সব অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে আসিয়ান দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানাননি বরং আসিয়ান দেশগুলির মোট ২৭টি সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখেছেন তিনি। শুক্রবার ১০টি ভাষার সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এসব দেশের মানুষের কাছে তাঁর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, আসিয়ান-ভারত সম্পর্কের ২৫ বছর উদযাপনে আয়োজিত শিখর সম্মেলন উপলক্ষে আমি আসিয়ানের নেতাদের আপ্যায়ন করার সুযোগ পেয়েছি। ভারতে তাদের উপস্থিতি আসিয়ান দেশগুলির তরফ থেকে এক বিপুল সদিচ্ছার ইঙ্গিত। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে একসঙ্গে ১০টি দেশের রাষ্ট্র প্রধানের উপস্থিতিকে ভারত-আসিয়ান সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন মোদী।

তিনি লিখেছেন, ভারত এবং আসিয়ান দেশগুলির মোট ১৯০ কোটি মানুষের জন্য ভারত-আসিয়ান সহযোগিতা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ বা ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির কথা আসিয়ান দেশগুলির মানুষকে মনে করিয়ে দিতে মোদী আরও লিখেছেন, সূর্যোদয় দেখার জন্য চিরকালই ভারতীয়রা পূর্ব দিকে তাকাতে অভ্যস্ত। আসিয়ান দেশগুলির উপর প্রভাব ক্রমশ বাড়ানোর চেষ্টা করছে চীন। কিন্তু নয়াদিল্লি আর বেইজিংকে একতরফা সুযোগ দিতে চায় না। তাই আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করার উপর জোর দিয়েছে ভারতও। ১০টি দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধটিতে এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ঐতিহাসিক ভাবেই যে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিবিড়, সে কথা মোদী উল্লেখ করেছেন। চীনের নাম না করলেও, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আগ্রাসনের কথা প্রকারান্তরে লেখায় তুলে ধরেছেন মোদী। দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে অনেকগুলি আসিয়ান দেশেরই। ভারতের সঙ্গে যে আসিয়ান দেশগুলির তেমন কোনও সংঘাত নেই, মোদীর নিবন্ধে সে কথাও স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে।

আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আসিয়ান হলো ভারতের চতুর্থ শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি বলেন, আমাদের সাগরকে আরো নিরাপদ করতে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। তিনি আরো লিখেছেন, আসিয়ান এবং ভারতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত ও আমাদের সকলের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য।