মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে পালানো ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এরপর পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আ: ছালাম খান পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে পালিয়ে যান সেতাফুল ইসলাম। এর মধ্যে পরপর দুই দিনে তিনি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা তুলে বস্তায় ভরে নিয়ে গেছেন।
এর আগে তিনি প্রায় আট কোটি টাকা সরিয়ে নেন।
এ ছাড়া আরও ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য ব্যাংক চেক তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি পালিয়ে যান।

জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে পিরোজপুর জেলায় বদলি করা হয়। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল ঘটনার তদন্ত করে গত ১৭ জানুয়ারি সেতাফুল ইসলামকে আসামী করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার ও জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় জমি অধিগ্রহণ খাতের পাঁচ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাত করেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় এ কাজ করে দেয়। জমি অধিগ্রহণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এ জন্যে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অগ্রিম চেক পাঠাতে হয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ক্ষতিপূরণের পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ জমা দেয়া হয়।
এরপর গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর দুই দফায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন সেতাফুল ইসলাম। বাকি ৬ লাখ টাকা অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো হয়।
অপরদিকে, জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে ১০ কোটি টাকার অপর একটি চেক সই করে তা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের জালিয়াতি ধরা পড়ায় ওই চেকটি জেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৬ ডিসেম্বর ২ কোটি, ৭ ডিসেম্বর ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং একই দিন বাজিতপুর সোনালী ব্যাংক থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা তুলে নেন সেতাফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি দুর্নীতির মামলায় পিরোজপুর জেলার সার্কিট হাউসের সামনে থেকে পুলিশ সেতাফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রোববার তাকে কিশোরগঞ্জে আনা হয় ।