মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে : সরকারি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক :      

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তারা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচালের নামে তারা হত্যাসহ আগুন সন্ত্রাস চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। এবারও দেশের জনগণ তাদের যে কোন ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেবে।
গত ৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন তা সমর্থন করেন।
গত ৭ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে এ ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ ১৬তম দিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সরকারি দলের রমেশ চন্দ্র সেন, কামরুল আশরাফ খান, আলী আজম, আফতাব উদ্দিন সরকার, ছানোয়ার হোসেন, নুরুন্নবী চৌধুরী, নবী নেওয়াজ, বেগম আখতার জাহান ও জাসদের বেগম লুৎফা তাহের আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট দূর করতে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। চলতি বছরের প্রথম দিকে ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে। বছরের শেষ দিকে আরো ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলে ডাক্তার স্বল্পতা থাকবে না। গত বছর ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন পোলিও মুক্ত। স্বাস্থ্য সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, আইটি সেক্টরে উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য ৯৯৯ সেবা চালু করায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারি দলের অন্য সদস্যরা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষ সচেতন থাকায় তাদের ষড়যন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। এখনও নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা অযৌক্তিক দাবি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এবারও তাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই যথাসময়ে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তারা বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দিকে দ্রুত অগ্রসরমান। দেশের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বে আবির্ভূত হবে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১৬শ’ ডলার ছাড়িয়েছে। দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে, প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। দেশের দারিদ্র্যতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দেশের ৮ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্র থেকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ ২২০টি সেবা পাচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়ন বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে ও যোগাযোগ খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।