বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
Shadow

প্রধান শিক্ষকের প্রতারণায় পরীক্ষা দিতে পারেনি গফরগাঁওয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অর্ধশতাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেনি। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার পরীক্ষার্থীদের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে পরীক্ষার্থী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ ,সড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদেরকে বিচারের আশ^াস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ তার বিদ্যালয় থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫৩ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করায়। তার মধ্যে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থী, এবং উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮জন শিক্ষার্থী। উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম-দশম শ্রেণীতে পাঠদানের অনুমতি না থাকায় এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইয়াসমিন সুলতানা পপি ছাত্র প্রতি ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার অফার দেয় ওই প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ।

মারুফ আহমেদের কথার ফাঁদে পড়ে উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থী দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পূরণ করে। রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে মারুফ আহমেদ আদায় করে আরো প্রায় দেড় লাখ টাকা। তার প্রতারণার শিকার হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মারুফের বিচারের দাবীতে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে থানা ঘেরাও করে। সকাল ১০টার দিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ইসলামিয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে। সরকারি কলেজ পরীক্ষা ভেন্যুর সামনে সড়ক অবরোধ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্তকরে।

উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিম, জান্নাত, শামছুন্নাহার,স্বর্ণা, সজিব, হাজেরা, ঝুমুর জানায়, প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মাধ্যমে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করি। কিন্তু আমরা কেউ পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাইনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রতি বছরই প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ এ ধরনের কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উথুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানা পপির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ বুধবার রাত থেকে পলাতক রয়েছেন। মারুফ উপজেলা জামায়াতের সদস্য বলে জানা গেছে।
পরে দুপুর ১২টার দিকে পরীক্ষার্থীরা রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় ভাংচুর করার চেষ্টা চালালে ওই প্রধান শিক্ষকের ভাড়াটে মাস্তানরা পরীক্ষার্থীদের মারধর করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় মামলা দায়ের করতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার সময় জামায়াত নেতা রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ এই রকম অপকর্ম করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।