রবিবার, এপ্রিল ১১
Shadow

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই নেয়া হলো এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্রের পর দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নও পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা
আগে ফাঁস হয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে বরাবরের মতো এবারো প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো খবর তাদের কাছে নেই- এমন মন্তব্য করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার মানবজমিনকে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের খবর আমি বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় দেখেছি। তবে এ খবরের সত্যতা পাইনি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

পরীক্ষা বাতিলের কোনো কারণ দেখছি না।
বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বোর্ড বা বিজি প্রেস থেকে এখন আর প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না। ৯টার পর ফাঁস হওয়ার মানে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত। যাই হোক না কেন, ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ভাইরাল করে দেয়ার ঘটনায় কর্মকর্তারা আতঙ্কে। তারা বলছেন, এটি বোর্ডের পক্ষে রোধ করা সম্ভব না। এজন্য বিটিআরটি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বতঃস্ফূর্ততা দেখাতে হবে।
গতকালের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে মেইল করে জানানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, যেসব ফেসবুক পেজ থেকে প্রশ্ন ফাঁসের খবরটি ভাইরাল হয়েছে তা মেইল করে দু’টি সংস্থাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র পাঠানোর সঙ্গে দশ হাজার শিক্ষক-কর্মকতা-কর্মচারী যুক্ত। একেক কেন্দ্রে একেকভাবে প্রশ্ন পত্র যায়। এর মধ্যে রয়েছে স্পিড বোট, রিকশাও। এছাড়া কোনো কোনো কেন্দ্রে হেঁটেও প্রশ্ন পৌঁছে দেয়া হয়। থানা বা ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে তিন জন সরাসরি এর দায়িত্বে থাকেন। এখন কাকে সন্দেহ করবো? ১০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে ৯ হাজার ৯৯৯ জনও যদি সৎ হন আর মাত্র একজন অসৎ হন, তাহলে অসৎ একজনই লাখ লাখ মানুষের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি?
এর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে সচিব সোহরার হোসাইন বলেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসা মাত্রই পরীক্ষা বাতিল করা হবে। প্রশ্ন ফাঁসের পর বক্তব্যের জন্য সচিবকে একাধিবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। আর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিষয়টি সচিবকে জিজ্ঞেস করার অনুরোধ করেন।
গতকাল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফাঁস হওয়া সেই প্রশ্ন মিলে যাওয়ার পর কর্মকর্তারা বরাবরের মতোই বলেন, বিষয়টি তারা দেখবেন। বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই ১০০ ভাগ মেলার নিশ্চয়তা দিয়ে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁস করার বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছিল ফেসবুক গ্রুপে। ঝঝঈ ছঁবংঃরড়হ ঙঁঃ, চঝঈথঔঝঈথঝঝঈথঐঝঈথউবমৎবব ড়ঁঃ য়ঁবংঃরড়হ নধহশ, ঝঝঈ ছঁবংঃরড়হ ঙঁঃ ১০০% ঈড়সসড়হ অষষ ইড়ধৎফ ্‌ জবুঁষঃ ঈযধহমব ২০১৮+১৯+২০ অষষ ইউ, চঝঈ ঔঝঈ ঝঝঈ ঐঝঈ অষষ ঊীধস ১০০% ঈড়সসড়হ ঝঁমমবংঃরড়হ ্‌ ঙঁঃ ছঁবংঃরড়হং ইত্যাদি ফেসবুক গ্রুপে ওই বিজ্ঞাপন আসছিল। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সোয়া ৯টার মধ্যেই উত্তরসহ ‘খ’ সেট বহুনির্বাচনী প্রশ্ন এসব গ্রুপে ফাঁস করা হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এ ছাড়া ফেসবুক মেসেঞ্জারে সকাল ৯টা ১৬-তে ‘হিমুর ছায়া’ নামের একটি আইডি থেকেও উত্তরসহ ‘খ’ সেটের প্রশ্ন ইমেজ আকারে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, আমরা এখনো কোনো তথ্য প্রমাণ পাইনি।
বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এসএসসিতে এবার অভিন্ন প্রশ্ন পত্রে হচ্ছে সব বোর্ডের পরীক্ষা। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরকার আন্তরিক এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছিলেন, আমরা খুবই ডেসপারেট, খুবই অ্যাগ্রেসিভ এ (প্রশ্ন ফাঁস) বিষয়ে। যদি কোথাও কেউ কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করে, তিনি কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। কী হবে, আমিও সেটা ধারণা করতে পারি না। চরম একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে।