শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

আবদুল হামিদই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

প্রাইম ডেস্ক :

দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন মোঃ আবদুল হামিদ। সোমবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে তাঁর পক্ষে মাত্র একটি মনোনয়নপত্রই জমা পড়েছে। এখন এ পদে নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা। আগামীকাল বুধবার এই মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। জানা গেছে, বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ওইদিনই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদে মোঃ আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। সোমবার জমার শেষ দিনে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এসে রাষ্ট্রপতির পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদে সরকারী দলের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহীম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল কবীর কাওসার। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় ভোটের আয়োজন করতে হবে না।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এতে করে তারা জনপ্রত্যাশা পূরণ করেছেন। আমাদের কাছে আছে অনেকেই। মনে হচ্ছে, তিনিই জনগণের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য, জনগণের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। রাষ্ট্রপতি তো দলের রাষ্ট্রপতি হবে না, দেশের রাষ্ট্রপতি। কাজেই ওই ধরনের একজন মানুষকেই খুঁজে নিয়েছি। জনগণের চিন্তা-ভাবনা, চোখের ভাষায় মোঃ আবদুল হামিদই সর্বাধিক প্রত্যাশিত। মোঃ আবদুল হামিদ হচ্ছেন ভাটি বাংলার বীর পুরুষ, মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের পছন্দের এ মানুষটি দেশের মানুষ গ্রহণ করছে আস্থার সঙ্গে। এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করলেই আওয়ামী লীগ খুশি।

গত ২৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এ পদে নির্বাচনের জন্য সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল। শেষ দিনে বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষে একটি মাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে ৭৪ বছর বয়সী মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বাছাই শেষে যে কোন সময় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে। তফসিলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য মোঃ আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমর্থক হয়েছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তার পক্ষে জমা দেয়া দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আর সমর্থক হয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। তৃতীয় মনোনয়নপত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রস্তাবক হয়েছেন। সমর্থক হয়েছেন হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়। আর একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। যে কোন একটি বাছাইয়ে বৈধ হলেই অন্যগুলো বাদ হয়ে যায়।

গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় মোঃ আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন।

২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর কারণে ওই বছর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন মোঃ আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। এরপর থেকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। দেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে মোঃ আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ। তৃতীয় মেয়াদে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সুযোগ নেই।