রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

বাংলাদেশের মহানুভবতা নজিরবিহীন :রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুইস প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে স্বদেশে ফেরত যেতে পারে, এ লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ড প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতা দেখিয়েছে, তা নজিরবিহীন। এ জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট বেরসে বলেন, এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভরণ-পোষণ বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সুইজারল্যান্ড সরকার রোহিঙ্গা সংকটে ত্রাণ সহায়তাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে দেশটির পাশে রয়েছে।

এ সময় রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে সাহায্য অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন অ্যালেইন বেরসে।

এট আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে বেরসে বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর পর তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) স্থাপিত রোহিঙ্গা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শনে যান।

আধা ঘন্টার বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে উখিয়ার উদ্দ্যেশে রওনা দেন।

পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তিনি উখিয়া কুতুপালং পৌঁছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সুইস রাষ্ট্রপ্রধান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের চিকিৎসা কার্যক্রম এবং ডি-৫ ব্লকের ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন ছাড়াও সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সময় তিনি কথা বলেন রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও।

সুইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইওএম ও ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সুইস প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুরো এলাকায় কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি প্রশাসন। বন্ধ ছিল দোকানপাটও। মঙ্গলবার ভোর থেকেই এ পরিস্থিতিতে চলাচলে সমস্যা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ জনসাধারণের।

চারদিনের সফরে গত সোমবার বাংলাদেশ এসেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে।