সোমবার, জানুয়ারি ১৮
Shadow

আদালতে বিচারক, খালেদা জিয়ার অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতের পথে রওনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসা থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
খালেদা জিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১, গুলশান-২, নাবিস্কো মোড়, পেরিয়ে মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে কাকরাইল, হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বর হয়ে বকশীবাজারের আদালতে যাচ্ছেন। এ জন্য রুটের পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আদালতে পৌঁছেছেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি নিজের খাসকামরায় অবস্থান করছেন।
খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছলে তার উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করবেন বিচারক। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তার হাজিরার কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীন, মীর নাসির উদ্দীন, নিতাই চন্দ্র রায়, সানাউল্লাহ মিয়া, আজিজুর রহমান খান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ উপস্থিত রয়েছেন।
এ ছাড়া দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মান্নান, মীর আবদুস সালাম প্রমুখও উপস্থিত হয়েছেন।
দুই দফায় নাম-প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে সেখানে পৌঁছেছেন সাংবাদিকরাও।
রায় উপলক্ষে সকালেই কারাগার থেকে মামলার দুই আসামি সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে আনা হয়েছে।
আদালতের ভেতরে সাদা পোশাক ও পোশাক পরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাইরে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তিন আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী পলাতক রয়েছেন।
খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির উপস্থিতিতে আজ দুপুর নাগাদ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ছয় আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবেন।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ মামলায় ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২৮ কার্যদিবস ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ১৬ কার্যদিবস উভয়পক্ষের (দুদক ও আসামিপক্ষ) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৫ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।