শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

এতিমের টাকা লুটে খেলে এমনই হয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা এতিমের টাকা লুটে খায়, মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের সাজা এভাবেই হয়। লজ্জা থাকলে খালেদা জিয়া আর দুর্নীতি করবেন না। বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি একথা বলেন।

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের হয়েছে দশ বছর করে কারাদণ্ড। একসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শত শত মানুষ তারা পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট দুর্নীতি করেছেন খালেদা জিয়া। আজকে তিনি কোথায়? কাজেই মানুষের উপর অত্যাচার করলে ওই আল্লাহর আরশও কেঁপে যায়।

লুটপাটকারী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী, এতিমের টাকা যারা লুটে খায়, তাদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় আসা মানে দেশকে ধ্বংস করে দেয়া। একমাত্র আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়।

দেশের চলমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। সেই উন্নয়নের ছোঁড়া বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র লেগেছে। বরিশালে অনেক ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ করেছি আমরা।

‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’ উদ্বোধন শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে ৪টার দিতে বক্তব্য দিতে শুরু করেন তিনি। এর আগে জনসভা মাঠ থেকে ৩৯টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ৩৩টি কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। দুপুরে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে অবস্থিত এ সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে ৩০টি সেনানিবাস থাকলেও এতদিন দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কোনো সেনানিবাস ছিল না। দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হতো। জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাসহ দক্ষিণ উপকূলের ৬ জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মেকাবেলায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার দেড় হাজার একর এলাকায় আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো ১৭ হাজার জনবলের নবনির্মিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস।

সকাল সোয়া ১১টার সময় হেলিকপ্টারে করে সেনানিবাসের বরিশাল অংশের বাকেরগঞ্জ পৌঁছান শেখ হাসিনা। পরে পটুয়াখালীর লেবুখালী অংশে যান এবং রাষ্ট্রীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন।