সোমবার, জানুয়ারি ২৫
Shadow

জেলকোড অনুযায়ী খালেদাকে মর্যাদা দেয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে কারাগারে মর্যাদা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া এ আদেশ দেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কারাগারে তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

শনিবার কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে নেত্রীকে। সেখানে অন্য কোনো কারাবন্দি নেই। এটি অন্যায়, আমরা এ বিষয়ে আদালতে যাব। এর পর রোববার আদালতে খালেদা জিয়ার জন্য জেলে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করা হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিধি অনুযায়ী তিনি ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। তাই তার ডিভিশন আবেদন মঞ্জুর করা হোক।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশনের চেয়েও বেশি মর্যাদা পাচ্ছেন। তার পক্ষে ডিভিশন আবেদনটি মঞ্জুর করা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

এ সময় আদালতে খালেদার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, জিয়াউদ্দিন জিয়া, এম হেলাল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলার রায়টি যেন দ্রুত কার্যকর করা হয় এবং আদালত খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে যে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন তা যেন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়া একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।