শুক্রবার, জানুয়ারি ১৫
Shadow

শ্রীপুরে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগে দালালচক্র সক্রিয় হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা :
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর এলাকায় সরকারি মাস্টারপ্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে সক্রিয় দালালচক্র। এই চক্রটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাপ্য বিদ্যুৎ লাইন থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ দায়েরের পরও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে হয়দেবপুর এলাকার ইব্রাহীম খানের পুত্র অহাব খান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার এবং শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমনকি দালাল চক্রের হুমকির কারণে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছেন। এতে দালালচক্রের সদস্যরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।

অভিযোগে জানা যায়, বর্তমান সরকার তৃণমূলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাড. রহমত আলীর ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে মড়ল বাড়ি থেকে দরগা বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে ওই লাইন নির্মাণের জন্য ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ঠিকাদার নিয়োগ করে। এ সময় একটি চক্র ওই লাইনের নির্মাণ বাবদ সংযোগ প্রার্থীদের কাছ থেকে মিটার প্রতি পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার টাকা তুলতে তৎপর হয়ে উঠে। প্রায় ছয় শতাধিক মিটার সংযোগের জন্য দালাল চক্র হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকা।

অভিযোগে আরো জানা যায়, ইউসুফ খানের পুত্র মাইন উদ্দিন খান(৫০), মৃত সামছুল হক মৃধার পুত্র রিজন মৃধা(৪৫),মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র কিরন মৃধা(৩৫),বাশার খান(৫০),নাজিম উদ্দিন(৪৫)সহ আরো কয়েকজন ও ভালুকার ঠিকাদার শামীম আহম্মেদের সমন্বয়ে টাকা উত্তোলন করে। হয়দেবপুর গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, ইউসুফ খানের পুত্র মাইন উদ্দিন খানের কাছে ২ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে আরো ৫ হাজার টাকা দিতে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন, না দিলে বিদ্যুৎ লাইন দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে মাইন উদ্দিন খানের ছেলে বাশার খান গ্রাহকদেরকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান ওই গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ প্রার্থীরা। স্থানীয় নাজিম উদ্দিন জানান, তিনিও আপাতত ৪ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। গৃহবধূ রুনা আক্তার জানান, তিনি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তার ছাগল বিক্রি করে তাদের হাতে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েছেন। জোসনা, রবি দাস বলেন, অনেক কষ্টে ধার দেনা করে ৫ হাজার ৩শ টাকা দিয়েছি, সাথে চালও দিয়েছি কিন্তু পোড়া কপাল বিদ্যুতের দেখা পেলাম না। এ রকম আনোয়ারা বেগম,রিপা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, টাকা তো দিয়েছিই সাথে মিটার প্রতি এক কেজি চাউল-পিয়াজ-তেল ও দিয়েছি।
আনোয়ারা বেগম,রিপা আক্তারসহ অনেকেই বলেন,মিটার প্রতি ২০ কেজি চাউল ৩ কেজি পিয়াজ ২ লিটার সয়াবিন তেল দিয়েছি ।
অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন খান টাকা-পয়সা ও মালামাল নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওয়ারিং লাইন নির্মাণ বাবদ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদারকে দিয়েছি। টাকা উত্তোলনকারী অন্য আরেকজন কিরণ মৃধা জানান, বিদ্যুৎ নিলে টাকা লাগেই সেজন্যে টাকা নিয়েছি আপনারা যা পারেন করেন।
কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মÐল জানান, সরকার জনগণের জন্য বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ ফ্রি করেছে এখানে কেনো টাকা লাগবে? কেউ নিয়ে থাকলে বিষয়টি অবশ্যই দেখবো।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জহিরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।