শনিবার, জানুয়ারি ১৬
Shadow

ইন্টারনেট বন্ধ করতেই সময় পার, ঠেকানো যায়নি প্রশ্নফাঁস

প্রাইম ডেস্ক :

এসএসসির আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে রবিবার সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরকে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই নির্দেশনা পেয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করতে করতেই পার হয়ে যায় নির্ধারিত আধা ঘণ্টা সময়। এর মধ্যেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ইন্টারনেট বন্ধ করেও ঠেকানো যায়নি প্রশ্ন ফাঁস। বিটিআরসি চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছে ইন্টারনেট বন্ধের সুফল মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিটিআরসি ৫টি মোবাইল ফোন অপারেটরকে ই-মেইল করে আধা ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু ইন্টারনেট তো আর চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করা যায় না। ফলে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে কিছু বন্ধ করলেও সব বন্ধ হওয়ার আগেই নির্ধারিত আধা ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। এরপর আবার অপারেটররা যেগুলো বন্ধ করেছিল তা আবার সচল করে দেয়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহ্জাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা আধা ঘণ্টার জন্য সবগুলো অপারেটরকে ইন্টারনেট বন্ধ করতে বলেছিলাম। কিন্তু এই ইন্টারনেট বন্ধের সুফল পাওয়া যায়নি।’ প্রতিটি পরীক্ষার দিন এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই বলা যাবে না। জানা গেছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে খোঁজ রাখতে বলেছিল বিটিআরসিকে। এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে বিটিআরসির কাছে চিঠিও দিয়েছিল মন্ত্রণালয়।

সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেও স্কুল কলেজের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পারছে না। গত বছর পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় প্রায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর এবার এসএসসিতে আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের হলে থাকা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি প্রশ্নের প্যাকেট খোলার ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিটি প্রশ্নই পরীক্ষা শুরুর আগে বিভিন্ন ফেইসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপে চলে আসছে।

প্রসঙ্গত, দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করার কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশে। পরে ইন্টারনেট চালু হলেও ২২ দিন বাংলাদেশে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বেশ কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখে সরকার।