বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
Shadow

পেঁয়াজ ও সবজির দাম আরো কমেছে

প্রাইম ডেস্ক :

জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি হঠাৎ সবজির দাম চলে গিয়েছিল নাগালের বাইরে। আর পেঁয়াজের দাম আরো আগে থেকেই বেশি। তবে এগুলোর দাম প্রতি সপ্তাহেই কমছে এখন। যদিও উচ্চমূল্যে স্থির হয়ে আছে চালের বাজার। এ ছাড়া দেশের খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের বাজার চড়া। অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন পার্থক্য চোখে পড়েনি।

গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালীন সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আরো কমেছে। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও যা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং তিন সপ্তাহ আগে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একইভাবে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে যা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে ফুলকপি প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শশা ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিমের দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।

শান্তিনগরের সবজি ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন বলেন, মাঝে তীব্র শীতের কারণে একটু সমস্যা হয়েছিল। তা কেটে যাওয়ায় সবজির দাম কমে এসেছে। তা ছাড়া শীতের প্রথমদিকে হাইব্রিড সবজি বেশি আসত। এখন দেশি সবজি আসছে। এগুলোর সরবরাহ প্রচুর।

এদিকে পেঁয়াজের দাম আরেক দফা কমে দেশি ও আমদানিকৃত উভয়টাই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে আদার দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। দেশি রসুনের দাম আগের মতোই অর্থাৎ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ১০ টাকা বেড়ে আমদানিকৃত রসুন ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

তবে দেশের খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের সরবরাহে টান পড়েছে। ফলে দাম বাড়ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২০০, আইড় ৪০০-৪৫০ টাকা, মেনি ৪০০-৫০০, বাইলা প্রকার ভেদে ৩০০-৪০০ টাকা, বাইন ৪০০-৫০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা, শোল ৪০০-৫৫০ টাকা, টাকি ২৫০-৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৪০-১৮০ টাকা এবং কৈ ২০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সব ধরনের মাছেই ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে আগের সপ্তাহের বাড়তি দামেই স্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার। রাজধানীর বাজারগুলোতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। আর মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে।

মাংসের বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। পাশাপাশি দেশি মুরগি ৩৫০-৪০০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা, আর খাসির মাংস ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। খামারের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ টাকা হালি দরে।

অন্যান্য মুদি পণ্যের মধ্যে ছোলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ৯০-১১০ টাকা, নেপালি মসুর ডাল ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভোজ্যতেলের দাম আগের মতোই রয়েছে। বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০-৫৩০, এক লিটার বোতল ১০৫-১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খোলা আটা ২৮-৩০ টাকা, প্যাকেটজাত আটা ৩২-৩৫ টাকা, খোলা ময়দা ৩৪-৩৮ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৪৪-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।