সোমবার, জানুয়ারি ১৮
Shadow

শহীদ মিনার নেই গফরগাঁওয়ে ৩৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

 

আ.আজিজ :

ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে ৩৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার, রয়েছে ২৪টিতে। প্রায় সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানে আজো গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান গুলোতে রাষ্ট্রিয়ভাবে এ দিকস উদযাপন করতে হয় নিজস্ব পদ্ধতির মাধ্যমে শহীদ মিনার তৈরী করে।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভের পর এ দিবসটিকে বিশ্বমানের মর্যাদায় নিয়ে গেছে। বছর ঘুরে আবারও একুশ দোরগোড়ায় এসে গাইছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। জাতির আত্মমর্যাদা আর অহংকারবোধের প্রতীক ’৫২ এবং ’৭১। ভাষা আন্দোলনের ৬১ বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দৈন্য দেখে শহীদদের প্রতি উদাসীনতায় শঙ্কিত হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণ।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও পাগলা থানাধীন স্বনামধন্য এমন বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে নেই কোনো শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন ভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না অন্যদিকে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনুধাবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,অধিকাংশরই নেই শহীদ মিনার। আর যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, তাতেও অযত্ন অবহেলার ছাপ স্পষ্ট। এর মধ্যে একেবারে করুণ অবস্থা উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ। এটির সম্মুখভাগ সারা বছরই অবৈধ পরিবহণ দিয়ে অবরুদ্ধ থাকে। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। শহীদ মিনার থাকা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি এলে শহীদ মিনার পরিষ্কার করা হয়। এরপর কেউ আর ওই পথে পা মাড়ান না। এ কারণে অযত্নে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার না থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৭৪টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার আছে ১৮টিতে। দাখিল, আলিম ও সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে ৬৩টি। পরিতাপের বিষয়, এই ৬৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠেনি কোনো সৌধ। ডিগ্রি কলেজ, কারিগরি কলেজের সংখ্যা আট, শহীদ মিনার আছে দুটিতে। প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২২৮টি। তবে চারটিতে রয়েছে শহীদ স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না। তারা দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটির দিন হিসেবে ভোগ করে।

গফরগাঁও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. কেএম এহছান বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন নেই যা উদ্বেগের বিষয়

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, তা জানানোর জন্য নির্দেশ রয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন বাধ্যতামূলক। শহীদ মিনার থাকা বা না থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য ও মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে।