মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

গফরগাঁওয়ে সাবেক এমপি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের ১১ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহ ১০ আসনের (গফরগাঁও)র সাবেক এমপি মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ এর ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার স্থনীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন এর উদ্দ্যোগে গফরগাঁও উপজেলা ও পাগলা থানাসহ ১৫ ইউনিয়নে এক যোগে আলাদা আলাদাভাবে প্রয়াত নেতা আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ এর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয় ।

এসব কাঙ্গালী ভোজ ,আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ,গফরগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফ উদ্দিন বাদল, গফরগাঁও পৌর মেয়র ইকবাল হোসেন সুমন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, পাগলা বাজারে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন পাগলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান, দত্তের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ, সাবেক চেয়ারম্যান হালিম উদ্দিন, শাহ বদরুল হক বাদল প্রধান, যুবলীগ নেতা উজ্জ্বল প্রদান প্রমুখ।
মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট গফরগাঁওয়ের বাগুয়া গ্রামের সমভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রোস্তম আলী গোলন্দাজ। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । পরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গফরগাঁও আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১সালে এক টানা তিন বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ রাজনীতিক কর্মকান্ডে ও জনয়িতায় গফরগাঁওসহ আশপাশের কিংবদন্তিতুল্য হয়ে উঠেন। তিনি আলতাফ হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রæয়ারী কিডনি জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুও পর তার পুত্র ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বলেন, “রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ সবাই আমাকে দেখেই বলেন, ‘তোমার বাবার সঙ্গে আমরা রাজনীতি করেছি। তোমার বাবার মতোই মানুষের জন্য কাজ করো, তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করো।’ তারা সবাই বেঁচে আছেন। গফরগাঁওয়ের মানুষের জন্য দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমার বাবা নিজের শরীরের যতœ নিতে পারেননি। এ কারণে অবেলায়, অসময়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সৎ কর্ম ও আদর্শের মাধ্যমেই তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনে হায়েনাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমার নেত্রী , বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর নাখালপাড়ায় এমপি হোস্টেলে আমার বাবার শেষ মুখটি দেখার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন, কেঁদেছিলেন। নিজের জীবদ্দশায় বাবা নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাতেই মগ্ন ছিলেন।‘গফরগাঁও এক কথায় আওয়ামী লীগের দুর্গ। আর এই দুর্গ গড়ার পেছনে আমার বাবা মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে বাবার মতো আমিও দলের জন্য, দেশ ও এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।