শনিবার, জানুয়ারি ১৬
Shadow

ঘোষনার ১১ বছরেও পরিপূর্ণতা পায়নি জব্বার নগর

গফরগাঁও ( ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি :

১৯১৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার। এই মহান ভাষা শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারিভাবে তাঁর নিজ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে জব্বারনগর করার সিদ্ধান্ত হলেও গত ১১ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সরাকার ২০০৭ সালের ২৫ মার্চ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভায় ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষে তার গ্রামের নাম (জন্মস্থান) পাঁচুয়ার পরিবর্তে জব্বার নগর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এখনও নাগরিকত্ব সনদসহ ইউপি থেকে দেওয়া নানা কাগজপত্রে গ্রামটিকে পাঁচুয়া হিসেবেই লেখা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম জানান, তারা এখন পর্যন্ত কোনো গেজেট পাননি। এ কারণেই গ্রামের নাম পাঁচুয়া লিখছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা.শামীম রহমান জানান, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের গ্রামের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কিংবা অফিস আদেশ তার কার্যালয়ে নেই।

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম বাদল জানান, ১৯৯৮ সালে ভাষা শহীদের পৈতৃক ভিটা সংলগ্ন স্থানে ভাষা শহীদের নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন পর বর্তমানে সেটি সরকারিকরণ হয়েছে। ২০০২ সালে উদ্যোগ নিয়ে ২০০৫ সালে ভাষা শহীদ জব্বারের বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। সরকারিভাবে মহান শহীদ দিবস পালন করা হয় এখানে। ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্ররুয়ারি তারিখে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৬২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার উদ্বোধন করেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, ড. হালিমা খাতুন, বেগম রওশন আরা বাচ্চু। লোকবলের অভাবে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার এলাকাবাসীর চাহিদা মেটাতে পারছে না। লাইব্রেরিয়ান, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, পিয়নসহ ৫টি পদের মধ্যে শুধু লাইব্রেরিয়ান, কেয়ারটেকার ছাড়া অন্য কোনো পদে লোক নিয়োগ করা হয়নি।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন :

১৯১৯ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচাইর গ্রামে পিতা হাসান আলী এবং মাতা সাফাতুন নেছার কুলে জন্ম গ্রহন করেন আবদুল জব্বার । তাঁর অন্য ভাইদের নাম হচ্ছে আবদুল কাদের ও এ,এইচ,এম আসাদ (নয়ন)।

স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষিবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু দিন অধ্যয়নের পর দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন আবদুল জব্বার। পনের বছর বয়সে  সবার অজান্তে গৃহত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমানঃ মায়ানমার) পাঠান। সেখানে দশ-বারো বছর অবস্থান করেন। বার্মা থেকে দেশে ফিরে আমেনা খাতুন নামের এক যুবতীকে বিয়ে করেন আবদুল জব্বার। আমেনা-আবদুল জব্বার দম্পতির নূরুল ইসলাম বাদল নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে জব্বারের মৃত্যুর পর আমেনা খাতুনকে বিয়ে করেন তার সহোদর আবদুল কাদের। আমেনা-কাদের দম্পতির রফিকুল্লাহ্, আতিকুল্লাহ্ ও রাশেদা খাতুন নামে তিন সন্তান রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে হৃদরোগজনিত কারণে মারা যান আমেনা খাতুন।

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

আবদুল জব্বারের পুত্র জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তার শাশুড়ি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী হুরমত আলীর রুমে (২০/৮) উঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে, কি হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আবদুল জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ছিলেন ২০/৯ নম্বর কক্ষের সিরাজুল হক।

সম্মাননা,
মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন,।

প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি  উপলক্ষে জব্বারের গ্রামে তার স্বরণে মেলা বসে। এবারও স্থানীয়দের উদ্দ্যোগে এক দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশীয় সকল ধরণের পণ্যেও বাহারী আয়োজন থাকে। মেলার দুরের প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।