রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ থেকে বাঁচতেই শিমুল বিশ্বাসের আত্মসমর্পণ! (ভিডিও)

প্রাইম ডেস্ক :

https://youtu.be/KDU8h_YeSYo

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে কারাদণ্ডাদেশের পরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাস পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। যদিও বিএনপির দাবি তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিমুল বিশ্বাসকে শাহবাগ থানায় নাশকতার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তার আত্মসমর্পণ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হলে অনুসন্ধানে জানা যায়, বেগম জিয়া কারাগারে যাবার পর তার উপর বিএনপি নেতাকর্মীদের জমে থাকা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ এমনকি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ উঠার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতেই তিনি আদালত প্রাঙ্গণেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীরা হরহামেশাই অভিযোগ করে থাকেন যে শিমুল বিশ্বাস তার উপর বেগম জিয়ার অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য আড়াল করে ভুল বুঝিয়ে থাকেন এবং তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সুযোগও পেতেন না। ফলে বেগম জিয়ার সাথে নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়।

জানা যায়, বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে গেলে বাড়ির দরজার গেট না খোলার পেছনেও এই শিমুল বিশ্বাসেরই ষড়যন্ত্র ছিল যা নিয়ে বেগম জিয়া ও বিএনপিকে দেশে-বিদেশে অনেক সমালোচনা ও ধিক্কারের সম্মুখীন হতে হয়। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকেই সেসময় এই বিষয়ে শিমুল বিশ্বাসকে দায়ী করতে দেখা যায়।
এছাড়া শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরেই গুপ্তচরবৃত্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ পাওয়া যায়। বেগম জিয়ার সাথে তারেক রহমানের কথপোকথনসহ দলীয় বিভিন্ন তথ্য ফাঁসের জন্য অনেকেই শিমুল বিশ্বাসকেই দায়ী করে থাকেন। শিমুল বিশ্বাস নিজেও এ বিষয়ে অবগত।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সম্ভাব্য সাজা নিয়ে আইনজীবীদের মতপার্থক্যের সুযোগে অনেক নেতাই বেগম জিয়াকে আদালতে হাজিরা না দিয়ে তার অনুপস্থিতিতে রায় হলে নিজ বাসাতে গ্রেফতার হওয়ার পরামর্শ দিলে শিমুল বিশ্বাস বেগম জিয়াকে সাজা না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সে কারণেই আদালতে হাজিরা দিতে যাবার সময় হাবিব উন নবী সোহেলের নেতৃত্বে কয়েকহাজার কর্মী বেগম জিয়ার গাড়ি বহরের গতি কমিয়ে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে আদালতে হাজিরায় বাধা সৃষ্টি করে বাসায় ফিরিয়ে নিতে চাইলেও শিমুল বিশ্বাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এতে নেতাকর্মীরা শিমুল বিশ্বাসের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন।
জানা যায়, বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে শিমুল বিশ্বাসের অতীত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড যা বিএনপির জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে এবং বেগম জিয়া তার কারণেই সঠিক তথ্য ও পরিস্থিতি জানতে সক্ষম হননি। বিএনপির পতনের জন্য তাকেই অনেকাংশে দায়ী করে সরকারের এজেন্ট হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। শিমুল বিশ্বাস তার উপর অভিযোগের সবকিছুই জানতেন কিন্তু বেগম জিয়ার অতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে কেউ কিছু বলার সাহস না করলেও বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের পর তার উপর খড়গ নেমে আসার সম্ভাব্য বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই পুলিশের কাছে অাত্মসমর্পণ করেছেন তিনি।