শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭
Shadow

জনবল সংকটে বন্ধ শ্রীপুরের ইজ্জতপুর রেলষ্টেশন, স্থানীয়দের আশা,আবার চালু হবে ষ্টেশনটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

গাজীপুরের শ্রীপুরে জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ইজ্জতপুর রেলষ্টেশন। এই এলাকার লোকজনের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা এখনও গড়ে না উঠায় প্রতিনিয়ত জনদূর্ভোগে রয়েছেন তাঁরা। রেল ষ্টেশনকেই ঘিরে প্রতিদিনই জমজমাট অবস্থা ছিল ইজ্জতপুর বাজার। ষ্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা শূণ্য হয়ে পড়েছে বাজারটি। ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমে এসেছে। ইজ্জতপুর ষ্টেশনটিকে ঘিরেই রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস। স্থানীয়দের আশা, হয়তো আবারো চালু হবে ষ্টেশনটি।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেল সড়কের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রেল ষ্টেশন ইজ্জতপুর। যা উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত। বর্তমানে ষ্টেশনটি বি-গ্রেডের অর্ন্তভুক্ত। এলাকাবাসীর সহজ যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে ব্রিটিশ শাসকেরা পঞ্চাশের দশকে এই রেল ষ্টেশন চালু করেন। এ রেল ষ্ট্রেশনটিকে ঘিরেই এখানে ইজ্জতপুর বাজার বসে। স্বাধীনতার আগে ও পরে ইজ্জতপুর বাজারের রমরমা অবস্থা ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধেও ইজ্জতপুরের রেলষ্টেশন ঘিরে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে ২০১৩সালের ১১মার্চ জনবল সংকটের অজুহাতে রেল বিভাগ এই রেল ষ্টেশনের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই জনদুর্ভোগের উৎপত্তি শুরু হয়। বর্তমানে ষ্টেশনের সকল অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও কোন জনবল নেই। এছাড়াও স্থানীয়দের দাবী অনুযায়ী প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে দুই মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেয় ভাওয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন। তবে টিকেটের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীতে পরে, আবার সরকারও হারাচ্ছে তাঁর রাজস্ব।

ইজ্জতপুর বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এই রেল ষ্টেশন ঘিরেই ইজ্জতপুর বাজার বসে। এখানে কয়েক’শ দোকান রয়েছে। রুটি রোজগারের কয়েক হাজার লোকজন জড়িত। অথচ রেলষ্টেশন বন্ধ হওয়ার পর সপ্তাহের হাটবার ছাড়া প্রতিদিনই বাজার থাকে ক্রেতা শূণ্য। কোনমতে খেয়ে না খেয়ে পড়ে রয়েছেন এমন আশায়, হয়ত চালু হবে ষ্টেশনটি।

রেলওয়ে পরিচালন বিভাগের তথ্যমতে, একটি ষ্টেশনে কমপক্ষে তিনজন মাষ্টার থাকার বিধান রয়েছে। তাঁদের সহায়তায় থাকেন আরো তিনজন পয়েন্টম্যান। সবমিলিয়ে সাতজন জনবল ২৪ঘন্টা পালাক্রমে দায়িত্বপালন করেন। কিন্তু ইজ্জতপুরে জনবল সংকটের কারণে মূলত এই ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ষ্টেশনের কয়েক লাখ টাকার প্যানেল বোর্ড বা সিগন্যাল কেবিন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও ষ্টেশনের অবস্থিত স্থাপনাগুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় সন্ধ্যা হলেই অব্যবহৃত কক্ষ গুলোতে চলে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ।

কাগজপত্রে এই ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার এমদাদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইজ্জতপুর ষ্টেশনে দীর্ঘদিন তিনি ষ্টেশন মাষ্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে এখানে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন যাত্রবিরতির মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করত। দিনে এই ষ্টেশন ব্যবহার করত অন্তত দুই থেকে তিনশত যাত্রী। কিন্তু পরে তাকে ২০১৩ সালে কাওরাইদ ষ্টেশনে বদলী করা হয়। এসময় ষ্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাকে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থল ইজ্জতপুরে বদলী করা হয়। তবে অন্যান্য জনবল না পাওয়ায় এ ষ্টেশনে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন ষ্টেশনে কাজ করছেন। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা।

দীর্ঘ চার বছর ধরে এলাকাবাসীর জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ষ্টেশনটি চালুর দাবিতে স্থানীয় জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আন্দোলন করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি জালালউদ্দিন জানান, রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও তেমন ভাবে গড়ে উঠেনি। আমাদের এলাকার প্রায় দশ হাজার লোকের যোগাযোগের অন্যতম ব্যবস্থা ছিল রেল যোগাযোগ। বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় বিপাকে রয়েছে স্থানীয়রা। নানা ধরনের কাজে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে অর্থ ও সময় অপচয় হয়। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেলষ্টেশনটি চালু করার উদ্যোগ নিতে রেল বিভাগে স্মারক লিপি দেয়া হয়েছে। আমাদের আশা, জনদূর্ভোগ লাগবে সরকার দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ইজ্জতপুর রেল ষ্টেশন বিষয়ে জানান, সারাদেশই জনবল সংকটের কারণে অনেক ষ্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ধাপে ধাপে জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই তিন মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। নিয়োগ হয়ে গেলে এই ষ্টেশন পুনরায় চালু করা হবে।