রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়ে হামলা চালায় ফয়জুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইসলামি জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়েই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মাদ্রাসাছাত্র ফয়জুল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ রোববার বিকেলে সিলেটের মেজরটিলার র‌্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ এ কথা জানিয়েছেন।

আটক হামলাকারী ফয়জুল জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত এটি অনেকটাই নিশ্চিত জানিয়ে তিনি বলেন, তার কাছ থেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।  ফয়জুলের পুরো নাম ফয়জুল হাসান।  তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদলে।  তার বাবা আতিকুর রহমান মাদ্রসার খণ্ডকালীন শিক্ষক।  ফয়জুল নিজেও মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, তবে মাদ্রাসার নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলার সময় হামলাকারী একা ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ জানান, সাধারণত এমন ঘটনায় তারা একা থাকে না।  নিশ্চয়ই তার সঙ্গে অন্যরা ছিল যারা কৌশলে পালিয়ে গেছে।  এটি একটি চক্র।  এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, ফয়জুলের চাচা আবুল কাহারসহ তিন জনকে আটক করেছে র‌্যাব।  তবে এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে ফয়জুল সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি।

ফয়জুল সিলেটের জিন্দাবাজারের যে কম্পিউটারের দোকানে কাজ করত সেটির সত্ত্বাধিকারীকেও আটক করা হয়েছে।  তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শনিবার অধ্যাপক জাফল ইকবালকে হামলার পর শিক্ষার্থীদের রোষ থেকে ফয়জুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় র‌্যাব।  গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ইসলামের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারণে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় সে।  জাফর ইকবালের লেখা পড়ে তরুণরা নাস্তিক হচ্ছে বলেও দাবি করে ফয়জুল।

র‌্যাব জানায়, ফয়জুলকে পুলিশের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।  এ ব্যাপারে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করবে, সঙ্গে র‌্যাবও একটি ছায়া তদন্ত করবে।  এরইমধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব।

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাড়ি হলেও ফয়জুল পরিবারের সঙ্গে শাবি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার থাকত। রোববার তার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানান, ফয়জুল মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছে।  সে মঈন কম্পিউটার নামে একটি দোকানে কাজ করতো।
ফয়জুলের বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী টুকেরবাজারে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।