শুক্রবার, মে ৭
Shadow

পদ্মা সেতুর সাড়ে ৪শ’ মিটার আজ দৃশ্যমান হচ্ছে

পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান গন্তব্যে পৌঁছেছে। সেতুর ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির মাঝামাঝি স্থানে ভাসমান স্প্যানবাহী জাহাজটি এখন অবস্থান করছে। ৭ সি নম্বর স্প্যানটি শনিবার বিকেল ঠিক সাড়ে ৩টায় এখানে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির সামনে নোঙ্গর করা হয়েছিল। শনিবার এটি আবার রওনা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। স্প্যানটি আজ রবিবার সকাল ৮টা থেকে ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যেই এটি বসিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু সাড়ে ৪ শ’ মিটার দৃশ্যমান হবে। বিকেলে জাহাজটি নোঙ্গরের পরপরই ১২টি এ্যাঙ্কর দিয়ে এটি শক্ত করে নোঙ্গর করার কাজ শুরু হয়েছে।

আর তাই স্প্যানবাহী জাহাজটি থেকে পিয়ারের ওপরে স্থাপানের সকল চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে এখন। এর আগে শুক্রবার বেলা ১২টায় মাওয়ার কুমারভোগের বিশেষায়িত ইয়ার্ডের জেটি থেকে প্রায় ৩২শ’ টন ওজনের ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজটি এই স্প্যানটি পাজা করে তুলে নিয়ে রওয়ানা হয়। ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে দুটি ¯প্যান বসানোর মাধ্যমে ৩০০ মিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছিল। ১ম স্প্যানটি স্থাপন করা হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে গত ২৮ জানুয়ারি।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার ভাসমান ক্রেনের এই জাহাজটি জাজিরা প্রান্তের যথাযথ স্থানে পৌঁছে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করে বলেছেন সব ঠিকঠাক থাকলে রবিবার পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে সাড়ে ৪ শ’ মিটার। এ দিকে ৩৬ শ’ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ নামের বিশাল এই জাহাজ চলাচলে পদ্মা নদীর পানির গভীরতা ঠিক রাখার জন্যে নির্দিষ্ট চ্যানেলে ড্রেজিং অব্যাহত ছিল। তাই এবার মাঝপথে কোন বিরতি না দিয়েই সরাসরি জাহাজটি এসে ৩৫ নম্বর খুঁটির সামনে নোঙ্গর করেছে শুক্রবার। ঠিক একইভাবে শনিবার সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছায় কোন বাধা ছাড়াই।

আগেই স্প্যানটি স্থাপনের জন্য খুঁটির ওপরে সিমেন্ট মিশ্রণ উচ্চ ক্ষমতার বেয়ারিংসহ যাবতীয় কর্মকান্ড সম্পন্ন করা হয়েছে। ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটির ওয়েলডিংসহ যাবতীয় স্থাপনের কাজ স্থায়ীভাবে সম্পন্ন হবার পরে অস্থায়ী ফ্রেমটি খুলে ৩৮ নং থেকে ৩৯ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, তৃতীয় স্প্যানটি শনিবার স্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করা ছিল। তবে টেকনিক্যাল কারণে একদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এটি রবিবার স্থাপন সম্ভব হবে। এ দিকে এবারও স্প্যান স্থাপনে কোন আনুষ্ঠানিকতা নেই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন শুধু প্রথম স্প্যানটি বসানোর সময় আনুষ্ঠানিকতা ছিল। দ্বিতীয়টি স্থাপনে যেমন কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, তেমনি তৃতীয়টিতেও কোন আনুষ্ঠানিকতা নেই। এভাবেই একর পর এক স্থাপন হতে থাকবে স্প্যান। সেতুর বিশেষায়িত ইয়াডে আরও ৯টি স্প্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চীনে তৈরি করে রাখা হয়েছে আরও স্প্যান। এভাবেই একে একে ৪১টি স্প্যান বসে যাবে পদ্মার ওপর। এরপরই চলাচল করবে যানবাহন। দ্বিতল সেতুটির নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন ও ওপরে যানবাহন।

এ দিকে স্প্যান স্থাপনের পাশাপাশি অন্যান্য কাজও দ্রত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে নদীতে ১২২ পাইল স্থাপন হয়ে গেছে আরও ১১টি পাইলের বটম সেকশন সম্পন্ন হয়েছে। মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টের ১৭২টি পাইলের মধ্যে ৮৯টি পাইল বসে গেছে। অন্যান্য কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।