মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

গফরগাঁওয়ের শীলা ও সুতিয়া নদী এখন মরা খাল

 

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ ) প্রতিনিধি :

নিয়মিত খনন না করা, অপরিকল্পিত সুইচ গেইট নির্মান ও দখল দূষণে অস্তিত্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত খরশ্রোতা শীলা ও সুতিয়া নদী।

এছাড়াও অবৈধভাবে নদীর পাড় দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণের ফলে শীলা ও সুতিয়া অস্তিত্ব সঙ্কটের আরেকটি কারন। বর্তমানে নদী দুটির ৫০ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে।

নদীর তলদেশের শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করেছেন।

শীলা নদীর দৈর্ঘ্য ৭৩ দশমিক ২৫ ও সুতিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ৩৮০ কিলোমিটার। গফরগাঁও উপজেলার দীঘা গ্রাম থেকে নিগুয়ারী ইউনিয়নে ত্রিমোহনী পর্যন্ত শিলা নদীর ওপর ১২টি সুইজ গেট রয়েছে। সেচ কাজের জন্য ১৯৮৫ সালে তৎকালীন সরকার এ সুইজ গেট নির্মাণের কাজ শুরু করে তা ১৯৯০ সালে শেষ করে। কিন্তু এসব গেট কোন কাজেই আসছে না। অথচ এসব গেটই নদী দুটির মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় সড়কপথে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচে শীলা ও সুতিয়া নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন করতো।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শীলা নদীর দৈর্ঘ্য ৭৩.২৫ ও সুতিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ৩৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে শীলা নদীর উৎপত্তি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দেওয়ান বাড়ি খাল, বোকা বিল, কান খাল এবং পাশ্ববর্তী নিচু এলাকা হতে। এরপর তা প্রবাহিত হয়ে গফরগাঁওয়ের ত্রিমোহনী এলাকায় গিয়ে সুতিয়া নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। অপরদিকে সুতিয়া নদী ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে উৎপত্তি হয়ে গফরগাঁওয়ের ত্রিমোহনী এলাকায় বানার নদীতে গিয়ে মিশেছে।

নদী পাড়ের মানুষ কৃষি জমিতে নদী থেকে সেচ দিয়ে ফসল ফলাতো। এখন নদী দুটি নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটের কারণে হাজার হাজার একর জমি আজ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এক সময় নৌকায় করে এ এলাকার মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসল ধান, গমসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যেত উপজেলার হাটগুলোতে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে শীলা ও সুতিয়া নদী ভরে উঠলেও খরা আসতে না আসতেই নদীটি মরা খালে পরিণত হয়ে শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকে। খরা মৌসুমে হঠাৎ কেউ দেখলে বিশ্বাস করতে চাইবে না এ যেন নদী।

বাংলাদেশের মানচিত্রে এখনো শীলা ও সুতিয়া নদীর চিত্র থাকলেও নদী দুটির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। নদী দুটি সম্পুর্ন হারিয়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এ অঞ্চলের মৎস সম্পদ। নদী দুটির বুকে এখন সবুজের সমারোহ। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। বলা যায় শীলা ও সুতিয়া নদী এখন শুধুই স্মৃতি।

এ ব্যাপারে পাইথল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান ঢালী জানান, নদী দুটিকে কেন্দ্র করে এ এলাকার কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন নদীর কারনে এলাকায় কৃষিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাই বর্তমান সরকারের নিকট আমাদের দাবী কৃষক ও কৃষি বাঁচাতে নদী দুটি খননের দ্রুত উদ্যোগ নিবে।