মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

আজ রাষ্ট্রীয় শোক

প্রাইম ডেস্ক :

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার মসজিদ-মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, শোক দিবসে বাংলাদেশের সব সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে তার মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদেশে একদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে সব সরকারী, আধা-সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

এছাড়া শুক্রবার মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনার কর্মসূচীও বৈঠক থেকে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশী। দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে একদিন আগেই মঙ্গলবার দেশে ফিরে আসেন। এরপর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বুধবার সকালে তিনি নিজের কার্যালয়ে জরুরী বৈঠকে বসেন।

দুর্ঘটনার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তিন বাহিনীর প্রধান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে নজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত বাংলাদেশীদের দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বার্ন ইউনিটের দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসা দল কাঠমান্ডুতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃতদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহের জন্য পুলিশের একটি দলকেও নেপাল পাঠানো হচ্ছে। আহতরা যদি রাজি হন তাহলে তাদের আমাদের বার্ন ইউনিটে এনেও চিকিৎসা দেয়া হবে। কারণ আমাদের বার্ন ইউনিটে খুবই উন্নত চিকিৎসা হয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তৃতীয় কোন দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান নজিবুর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এভিয়েশন নিরপত্তা আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্যও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।