মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

সব পথ এসে মেশে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের স্বীকৃতি উদযাপনে ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছেন সরকারী-বেসরকারী খাতসহ সব শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। পুরো রাজধানীতে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বাংলাদেশের এমন অর্জনে সবার মাঝে দারুণ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনি। ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগানে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, বাহারি রঙের বেলুন, ব্যান্ডপার্টিসহ আনন্দ র‌্যালি নিয়ে বেরিয়েছেন তারা। রাজধানীর নয়টি স্পট থেকে নির্ধারিত পথ ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। বিকেল তিনটা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেয়া হয়। সন্ধ্যায় স্টেডিয়ামের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই সময় লেজার শো বর্ণিল আতশবাজিসহ ২-৩ ঘণ্টার একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে তল্লাশি সহকারে একজন একজন করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করানো হয়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রায় সবাই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। তবে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুর বারোটার মধ্যেই রাস্তায় নেমে আসেন র‌্যালিতে যোগ দেয়ার জন্য। ব্যানার, ফেস্টুন, বিভিন্ন লোকজ মোটিফ, বাহারি রঙের বেলুন, স্লোগান সংবলিত টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন তারা। বাংলা একাডেমি ও সংলগ্ন এলাকা, শিল্পকলা একাডেমি ও মৎস্য ভবন সংলগ্ন এলাকা, শিশু একাডেমি ও দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা, নগর ভবন, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ এবং শিল্প ভবন চত্বর এলাকায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে স্টেডিয়ামে আসেন।

কোন পয়েন্টে কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হয়ে কোন রুট দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন তাও আগে নির্ধারণ করে দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শোভাযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকেই সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছিল ছুটির আমেজ। অফিসে এসে শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। অনেককে শোভাযাত্রার টি-শার্ট গায়ে সচিবালয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য দুপুরে বিশেষ খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত স্পটের দিকে পায়ে হেঁটে যেতে থাকেন।

শুধু তাই নয়, ৫৭ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় দেখা গেছে সুসজ্জিত বাদকদল, ঘোড়ার গাড়ি। শোভাযাত্রায় বিশাল ব্যানার নিয়ে গায়ে বর্ণিল টি-শার্ট, মাথায় ক্যাপ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল ফেস্টুন। এছাড়া শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়েছে। শোভাযাত্রার ব্যানারে সরকারের নানা উন্নয়নের বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল-‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। সকল সূচকের উন্নয়নে বিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অর্জনের পথে বাংলাদেশ, ডিজিটাল যুগ, জনগণের সুখ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, হাতে রেখে হাত, উন্নয়নের ডাক, স্বপ্ন পূরণের উৎসবে আজ দেশ, বাংলাদেশ আজ দুর্বার, রুখবে তাকে সাধ্য কার’ প্রভৃতি।

এছাড়া কোন কোন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দ র‌্যালি করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আনন্দ র‌্যালিতে বেসরকারী খাত বিশেষ করে ব্র্যাক, টিএমএসএস, বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যোগ দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা থাকায় ওই সময় কোথাও কোন বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটদের সদস্যদেরও র‌্যালির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেখা গেছে।

কোন কোন দফতরের শোভাযাত্রায় মাইক ও স্পীকারে বেজেছে গান। শোভাযাত্রা থেকে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানও দেয়া হয়। বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে আনন্দ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা নিয়ে প্রবেশ করেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। ওই সময় ঢাকঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে-গেয়ে জিপিও মোড় হয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেখা গেছে সর্বস্তরের জনতাকে। শিক্ষা ভবন, হাইকোর্ট মোড়, মৎস্য ভবন, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে শোভাযাত্রা আসে স্টেডিয়াম অভিমুখে। জাতীয় এ আয়োজনে অংশ নিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ নানা স্তরের কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন।

প্রসঙ্গত, নিম্ন-মাত্রার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগ, সুশাসনের অভাব, দ্বন্দ্ব ও সংঘাত প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন দেশগুলোকে ১৯৭১ সাল থেকে এলডিসি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা শুরু করে জাতিসংঘ। ১৯৭১ সালে এলডিসি ছিল ২৫টি। এখন এলডিসির সংখ্যা ৪৭টি। এলডিসি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্বেচ্ছাধীন। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই) এ তিন শর্তের যে কোন দুটি পূরণ করে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে হয়। বাংলাদেশ তিনটি শর্তই একসঙ্গে পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরণ সমসাময়িক উন্নয়ন ইতিহাসের একটি বড় সাফল্য। আগের যে ৫টি দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে তাদের অর্থনীতি ছোট, জনসংখ্যার আকার কম। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রূপকল্প-২১, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ এখন সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পালন করছে। দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্যে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আনন্দ শোভাযাত্রায় শিক্ষা খাতে সরকারের সফলতা তুলে ধরা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেও প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে উন্নয়নের নানা চিত্র তুলে ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচী পালিত হয়। এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালন করে। নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেলা এগারোটায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থী-শিক্ষক সমবেতভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সাফল্যের তথ্যাবলি সংবলিত ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে সারিবদ্ধভাবে ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আনন্দ শোভাযাত্রা করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রধানশিক্ষক ফৌজিয়া আহমেদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা কর্মসূচী পালন করেন। প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে সারিবদ্ধভাবে ৩০ মিনিট অবস্থান করা হয়। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা, বিকেলে শিক্ষক-কর্মচারীরা স্কুলের প্রতীক ও সরকারের উন্নয়নের চিত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে সমবেত হন। শেরেবাংলা নগর আদর্শ মহিলা কলেজের সামনেও ছাত্রীরা দাঁড়িয়ে মানববন্ধন পালন করে।

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্যে সারা দেশের ন্যায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সেকেন্দার আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল হক বেগ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. মোঃ মিজানুর রহমান, প্রক্টর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়।

র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের ঐতিহাসিক এ সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেছা জানান। তিনি বলেন, কিছু কুচক্রীমহল বারবার দেশকে পেছনে টেনে ধরেছে, থামিয়ে দিতে চেয়েছে উন্নয়নের চাকা। জঙ্গী-সন্ত্রাসবাদ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় হস্তে তা মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন উন্নয়নের পথে। বক্তারা বলেন, তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে দেশে বর্তমানে মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, কৃত্রিম উপগ্রহ, পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, বিভিন্ন জায়গায় চার লেন রাস্তাসহ উন্নয়নমূলক আরও বড় বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও দেশের মঙ্গল কামনা করেন।

সরকারী মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ লেঃ কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আর বেশি দিন বাকি নেই। তার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের এই স্বীকৃতি আমাদের দেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ট্রাস্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজে আয়োজন করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। ট্রাস্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেলা এগারোটায় কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচীতে শোভা পায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সাফল্যের তথ্যাবলি সংবলিত বর্ণিল ফেস্টুন ও ব্যানার। ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় এক আলোচনা সভার। ট্রাস্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ খোকন চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ-উল-আলম সবুজের সঞ্চায়লনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেক, সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সুমন মিয়া এবং ছাত্রছাত্রীদের অনেকে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নের যে জোয়ার সৃষ্টি করেছেন এর প্রবাহ ছুঁয়ে গেছে আমাদের কওমী মাদ্রাসাগুলোতেও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একসেস টু ইনফরমেশন কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও আলেম উলামাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এভাবে মেধা বিকশিত করার পথকে সুগম করে দিয়েছেন তিনি।

সনদের স্বীকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা কওমী মাদ্রাসা অঙ্গন কখনও ভুলতে পারবে না দাবি করে আল্লামা মাসউদ বলেন, উন্নয়নের রূপকল্পে তুলে আনার জন্যই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসনদের স্বীকৃতি প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বছরের পর বছর ঝুলে থাকা এই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাসনদের স্বীকৃতি একটি আকাক্সিক্ষত স্বপ্ন ছিল। এ স্বপ্ন পূরণ করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে আল্লামা মাসউদ আরও বলেন, উন্নয়নশীলন দেশে উত্তীর্ণ হওয়ায় সত্যিই আমরা গর্ববোধ করছি। আমরা বাঙালী-মুসলমান কাজে, দক্ষতায় আর পরোপকারে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দেশের সর্বত্র কাজে যুক্ত করতে পারলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সরকার কওমী মাদ্রাসার ফারেগীন আলেমদের সরকারী চাকরি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান আল্লামা মাসউদ। আল্লামা মাসউদ যুদ্ধাপরাধী-রাষ্ট্রদ্রোহী শক্তি বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখতে পারবে না উল্লেখ করে বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি সবসময় বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে রাখতে চায়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে ইসলামের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এ দেশের মানুষ আর যুদ্ধাপরাধী শক্তিকে পছন্দ করে না।