সম্পাদকীয়

সৌরবিদ্যুত নীতি

সৌরবিদ্যুত নীতি

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের সমূহ হুমকির প্রেক্ষাপটে বর্তমানে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যুত উৎপাদন হয়ে থাকে প্রধানত কয়লা ও জীবাষ্ম জ্বালানির মাধ্যমে। খনিজ সম্পদ বিধায় এ দুটোর প্রাপ্তিই সীমিত। আন্তর্জাতিক বাজারে দামও স্থিতিশীল নয়। তদুপরি পরিবেশের জন্য সমূহ ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। অন্যদিকে জলবিদ্যুত, সৌরবিদ্যুত, বায়ুবিদ্যুত ও পারমাণবিক বিদ্যুত অপেক্ষাকৃত পরিবেশবান্ধব এবং এসবের প্রাপ্তিও সহজলভ্য ও অসীম। অবশ্য পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদনে ঝুঁকিসহ ব্যয় অনেক বেশি পড়ে। সে সব বিবেচনায় সর্বাধিক সহজলভ্য হলো সৌরালোক, বায়ু ও জলবিদ্যুত। গ্রীষ্মপ্রধান নিরক্ষীয় অঞ্চলের দেশ বিধায় বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অফুরান সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা সেই অপার ও অফুরান সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

নির্বাচন মানে আর কিছু নয়, নির্বাচন মানে জনতার কাছে যাওয়া। তাদের রায় নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া। জনগণকে তাদের শাসক নির্বাচনের অধিকার প্রদান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই হলো ভোটের কাজ। নির্বাচন কোন খেলাধুলা নয়। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়াও নয়। বল খেলার নাম রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে নীতির খেলা। এ খেলায় বিদ্যমান দলগুলো প্রতিপক্ষকে পরাজিত করবে জনগণ ও দেশের কল্যাণার্থে প্রদত্ত তাদের নীতির উৎকর্ষ দ্বারা। গায়ের জোর, ভোট চুরি, টাকার খেলা, গ্রেফতার, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বিদেশীদের কাছে নালিশ বা সমর্থন চাওয়া অত্যন্ত অশোভনীয়, অপ্রয়োজনীয়, বেমানান এবং জাতির জন্য তা বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। কিন্তু এসব এদেশবাসীকে দেখতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে। তার পরও জনগণ চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অর্থাৎ সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আশার কথা যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন
অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরক

অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরক

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণের শব্দ যেন ধ্বনিত না হয়। যেন হতাহত না হয় মানুষ। তাই সতর্কতা শুধু নয়, প্রয়োজন সেসব অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার। অতীতে তথা পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের নামে যেসব প্রহসন হয়েছে। সেখানে এ অস্ত্রের ঝঙ্কার যেমন ছিল, তেমনি বোমাবাজিতে প্রকম্পিত হয়েছে ভোটকেন্দ্র। সামরিক জান্তা শাসকরা গণরোষের মুখে নির্বাচন দিতে বাধ্য হলেও ক্ষমতা কুক্ষিগত করা এবং জান্তা সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য অন্তত বোমাবাজির ব্যবহার করেছে নিঃশঙ্কচিত্তে, গণভয় প্রদর্শনে। এমনিতে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে বাধা দান, কেন্দ্র দখল, ফলাফল পাল্টে দেয়ার জন্য অস্ত্র ব্যবহার ছিল যেন স্বাভাবিক বিষয়। অবৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঘটত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই। বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহারকারী সন্ত্রাসীদের উল্ল
নির্বাচনকালীন সরকার

নির্বাচনকালীন সরকার

প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনকালীন সরকার বলে সংবিধানে কোন বিধান নেই। নেই অন্তর্বর্তীকালীন বা সহায়ক সরকারের বিধানও। ভারত, ব্রিটেনসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহ সাংবিধানিক বিধিবিধানের আওতায় চলে। সেসব দেশে ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর সাংবিধানিক যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালিত এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও অনুরূপ। সেই বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংবিধান মতে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার সহায়কের ভূমিকায় থেকে নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। অর্থাৎ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সার্বিকভাবে সহায়তা করবে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট করা বা কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিকে নিয়ে সরকার গঠনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। স
কর ফাঁকি রোধে

কর ফাঁকি রোধে

বাংলাদেশের আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি কাক্সিক্ষত মাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে। দেশের কর ব্যবস্থা যুগোপযোগী না হওয়ায় তা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে রাজস্ব সংগ্রহে সমর্থ হচ্ছে না। দেশে একটি সমৃদ্ধ কর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কর ফাঁকি প্রদান এ দেশে চিরাচরিত প্রথা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল এক সময়। ক্রমশ তা পরিবর্তন হচ্ছে। নানাবিধ জটিলতা করদাতাকে কর প্রদানে অনাগ্রহী করে তোলে। এটা রাজস্ব বিভাগও স্বীকার করে। তাই তারা কর প্রদান সহজতর করার জন্য নানা পন্থা উদ্ভাবন ও কার্যকর করে আসছে। কর ফাঁকি রোধে তাই স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করতে যাচ্ছে। কর আদায় ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারসহ বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ফাঁকি রোধে কর প্রশাসন, কর গোয়েন্দা, তদন্ত ও প্রসিকিউশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ নিয়ে কাজ করছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের
অবশেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

অবশেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

১৫ নবেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন। প্রথমে ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ফেরতের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হক মিডিয়াকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের তালিকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) দেয়া হয়েছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেসব বিষয় ইউএনএইচসিআরকে ব্রিফও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় গত ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রথম তালিকায় ১ হাজার ৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ২ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। বিলম্বে হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরী। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
ডিজিটাল বিদ্যুত বিভাগ

ডিজিটাল বিদ্যুত বিভাগ

বাংলাদেশের বিদ্যুত বিভাগের সঙ্গে বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। সত্যি বলতে কি, আগামীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি হবে অত্যন্ত সহায়ক, একই সঙ্গে আধুনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ। অফিস ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ প্ল্যানিং বা ইআরপি একটি সর্বাধুনিক ধারণা। কোম্পানি পরিচালনা থেকে শুরু করে গ্রাহক সেবা; সর্বশেষ সব তথ্যই সন্নিবেশিত থাকবে ইআরপিতে। অতঃপর কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিদ্যুত বিভাগে কর্মরত যে কেউ এমনকি গ্রাহকও চাইলে যখন তখন নিজের কম্পিউটার, এমনকি মোবাইলে ক্লিক করে জানতে পারবেন যে কোন কাক্সিক্ষত তথ্য। বাংলাদেশে বিদ্যুত বিভাগই প্রথম এরকম একটি চুক্তি করল মাইক্রোসফটের সঙ্গে, যেটা ইআরপি তৈরিতে সুখ্যাত। ইতোমধ্যে যৌথভাবে তারা একটি সেমিনারও করেছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে এবং পুরো প
ধারাবাহিকতায় আস্থা

ধারাবাহিকতায় আস্থা

বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়া- তিনটি রাষ্ট্র সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী বলেই প্রতীয়মান হয়েছিল। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিধর কয়েকটি দেশে তাৎপর্যপূর্ণ সফর থেকে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের প্রতি অন্যান্য দেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেইসঙ্গে স্বদেশের ভাবমূর্তি সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। বছরের শেষদিকে সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরেও ইতিবাচক অর্জন ঘটেছে। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তা সৌদি বাদশাহের উচ্চারণেই উঠে এসেছে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হলে উভয় দেশের জন্যই সেটি ফলপ্রসূ হবে, দুদেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে- সে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন বাদশাহ সালমান। আমরা আগেও বলেছি গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরে
পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক

পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এখন অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বালিতে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আইএমএফের প্রধানসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকদের। সেখানেও বিশ্বব্যাংক বলেছে, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের রোল মডেল। শুধু এটুকু বলেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশের চলমান প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে আগামী এক বছরের জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই দিতে সম্মত হয়েছে ব্যাংকটি। এর বাইরেও রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণের লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের জন্য এক বিলিয়ন ডলার অনুদান প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক, যার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। তদুপরি বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্
গ্রেনেড হামলার রায়

গ্রেনেড হামলার রায়

না, বিচারের বাণী কাঁদেনি নীরবে নিভৃতে। ভয়াবহ নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের সাজাদান ঘোষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়েছে। অপরাধীদের দণ্ডাদেশ থেকে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ আর নেই। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহের উর্ধে থেকে অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই চৌদ্দ বছর পর হলেও রায় হয়েছে। অপরাধীদের দ-াদেশ হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে। ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছে আদালত। অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি সবক্ষেত্রে মিলেছে এমনটা নয়। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ষড়যন্ত্রের সূতিকাগার হাওয়া ভবনে বসে হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা কার্যকর করার সব ঘটনাই উদ্ঘাটিত হয়েছে। এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ, নৃশংস, নির্মম, নারকীয়, বর্বরোচিত, ভয়াবহ, বীভৎস এবং মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের ঘটনা বিশ্বের কোথাও ইতোপূর্বে ঘটেনি। পাষ-র