সম্পাদকীয়

মশক নিধন কার্যক্রম

মশক নিধন কার্যক্রম

সারাদেশ এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশন, সরকার, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সার্বিক সচেতনতা, সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কর্মযোগ এই রোগ নিরাময় হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এডিস মশা বাহিত এমন মারাত্মক রোগটিকে সামলাতে গেলে সংশ্লিষ্ট মশা নিধনই সর্বোত্তম উপায়। শুধু তাই নয়, বলা হচ্ছে ভদ্র, সজ্জন এই এডিস মশা ঘরের ভেতরের পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দশদিন পরই তা মশার বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ঘরের মানুষগুলোর রক্ত খেতে পছন্দ করে। সুতরাং সাবধানতা শুরু হবে একেবারে নিজস্ব ভবন থেকে চারপাশে থাকা সীমানায় যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক হয়। ফলে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি। এ ছাড়া মাশা নিধন ব্যবস্থাপনা নগর পরিকল্পনার নজরদারিতেই শুধু নয়, সারা বছর ধরে এমন কর্মযোগ চালানোও অপরিহার্য। সাধারণত বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি মশা উপদ্রব
নিরাপদ হোক কর্মস্থলে ফেরা

নিরাপদ হোক কর্মস্থলে ফেরা

এবারের ঈদ-উল-আজহায় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার তাগিদে প্রায় সর্বস্তরের মানুষের ভোগান্তির অন্ত ছিল না। পথে পথে দেশের প্রায় সর্বত্র অসহনীয় ও তীব্র যানজট তো ছিলই; সেইসঙ্গে ছিল টিকেট পেতেও ভয়াবহ ভোগান্তি। সত্যি বলতে কি, রেলপথ, সড়ক ও নৌপথ- প্রায় সব ক্ষেত্রেই তীব্র টিকেট সঙ্কট পরিলক্ষিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চমূল্যে টিকেট বিক্রি অথবা অত্যধিক হারে কালোবাজারে টিকেট প্রাপ্তির সত্যতা মিলেছে। অধিক মূল্যে টিকেট বিক্রির ব্যাপারে ব্যবস্থা তথা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। সর্বাধিক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে ট্রেনের টিকেট প্রাপ্তিসহ যথাসময়ে ছাড়ার ক্ষেত্রে। এমনকি সকালের ট্রেন রাতে ছেড়ে যাওয়ার প্রমাণও মিলেছে। এর পাশাপাশি প্রায় সবক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ বিলম্ব গন্তব্যে পৌঁছার অভিযোগও আছে। যে জন্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-নারী ও শিশুর দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন
শোকাবহ ১৫ আগস্ট

শোকাবহ ১৫ আগস্ট

শোকাবহ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শোকসন্তপ্ত জাতি আজ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধুকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে। যাঁর গৌরবময় নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। ঘাতক দল ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর নাম ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হয়নি। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হয়েছেন ধানম-ির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি এখন জাতির অন্যতম আবেগময় স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে। আর তিনি বাঙালী জাতির অফুরন্ত প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ঘাতকরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। মু
আজ পবিত্র ঈদ-উল-আজহা

আজ পবিত্র ঈদ-উল-আজহা

আজ পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। এই পবিত্র দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন। ঈদগাহে সমবেত সব মুসল্লি আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ঈদের আনন্দ ভিন্নতর মাত্রা পায়। হযরত ইব্রাহিম (আ) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছেন। মূলত কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ)। শরিয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের
চামড়ার দাম

চামড়ার দাম

বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই সংরক্ষিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছে চামড়ার দাম, যা মূলত গত বছরের মতোই। গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৪৫-৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। খাসির চামড়া সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা অবশ্য এই দাম আরও কমাতে চেয়েছিলেন। তাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার বাজারে মন্দা চলছে। বাস্তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দাম বেশি। কেননা, কৃত্রিম চামড়ার কারণে প্রকৃত চামড়াজাত পাদুকাসহ অন্যবিধ পণ্য দ্রব্য বর্তমানে বিলাসপণ্য হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বরাবরের মতো এবারও সক্রিয় চামড়া সিন্ডিকেট। তাদের দাবি ও চাপের মুখে তাই এবারও চামড়ার দাম বাড়ানো গেল
ঈদে বাড়ি ফেরা

ঈদে বাড়ি ফেরা

ঈদ মানেই উৎসব আর আনন্দ। নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাবারও এক পুলকিত অনুভব। শহরের কর্ম-কোলাহলের জীবন থেকে সাময়িক বিরতিতে ছায়াঘন পল্লী জননীর স্নিগ্ধ পরশ এক অনাবিল স্বস্তি। উৎসবপ্রিয় জাতি আমরা। তাই সাড়ম্বরে, আয়োজনে নতুন উদ্দীপনায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে আরম্ভ করে জাতীয় দিবসগুলোও পালন করতে ভালবাসি। ঈদের আনন্দ তেমনই এক উৎসবমুখর আয়োজন। ঈদ-উল-আজহার ধর্মীয় আবহ পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে। ফলে নতুন কাপড় কেনার চাইতেও বেশি ধুম পড়ে যায় গরু-ছাগল-দুম্বা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের মহাসমারোহে। এ তো গেল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। তাকে সামলাতে মানুষ যখন গ্রামের বাড়িতে আনন্দ মেলায় শরিক হয়, তেমন খুশির আমেজ সবাইকে শেকড়ের গভীরে নিয়ে যায়। গ্রামে গিয়ে কোরবানি দেয়া, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে একাত্ম হওয়া, তার চেয়েও বেশি সবাইকে নিয়ে উৎসব-আয়োজনকে সফল করে তোলা এক মনোজ্ঞ পরিবেশ। তবে এমন যাত্রা সব সময় নির্বিঘœ ও নিরাপদ হয় না। প্রথমত দেশের বাড়িত
কোরবানির পশু ও চামড়া

কোরবানির পশু ও চামড়া

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে শুক্রবার। এ মাসের দশম দিনেই পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। ঈদে কোরবানির জন্য পশুর যোগান পাওয়া যায় কোরবানির হাট থেকে। এবার ঈদের সাতদিন আগে থেকে হাট বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীর অস্থায়ী-স্থায়ী মিলে মোট ২৪টি হাটে থাকবে ২৪টি ব্যাংকের জাল নোট শনাক্তের বুথ। নিরাপত্তায় হাটে হাটে থাকছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার ও ক্যামেরা। এছাড়াও ক্রেতা- বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পও থাকছে হাটে। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক হাটেই চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। সুসংবাদ হলো ভিনদেশী গবাদিপশুর মুখাপেক্ষী হয়ে আর থাকতে হবে না বাংলাদেশকে। দেশী গরু-ছাগল দিয়েই কোরবানি হবে। কোরবানি সামনে রেখে প্রতিবছর গরু নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়ে থাকে, চলতি বছর আর সে আশঙ্কা থাকছে না। বরং চাহিদা অনুযায়ী গরুর যোগান থাকবে বাজারে। বলা যায়, গবাদিপশুর ক্ষেত্রে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেমন স্বয়
ঝুঁকিপূর্ণ পেশা

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা

সব পেশাতেই কিছু না কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তবে মৃত্যুঝুঁকি ভিন্ন বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসাবধানতাবশত কিংবা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষিত নয়। তবে বিদ্যুতকর্মীরা সচেতন বলেই তারা প্রতিরোধ ব্যবস্থা তথা সুরক্ষা গ্রহণ করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাই বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে বিদ্যুতকর্মীর অপমৃত্যুর উদাহরণ সমাজে খুব বেশি লক্ষণীয় নয়। বরং নির্মাণ শ্রমিকদের হতাহতের খবর বেশি জানা যায়। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব হচ্ছে একজন নির্মাণ শ্রমিকের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই আইনগত বাধ্যবাধকতা মানা হয় না। ফলে দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক অনেক সময় চিকিৎসার খরচও পান না মালিকপক্ষের কাছ থেকে। বিষয়গুলো দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কোথাও অন্যায়-অনিয়ম হলে তার প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো অধিকাংশ শ্রমিকই এক্ষেত্রে হন বঞ্
বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা

বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা

আগামী বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী। ১০০ বছর পূর্ণ হওয়া বঙ্গবন্ধুর জীবন কাহিনী মাত্র অর্ধশতকের ৫৫ বছর। এক নির্মম পাশবিক হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি সপরিবারে খুন হন। দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকার কারণে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। শোকের মাস আগস্ট অবর্ণনীয় কষ্ট আর যন্ত্রণায় প্রতি বছর আমাদের সামনে হাজির হয়। এবারও আগস্ট মাস অসহনীয় বেদনায় নতুনভাবে আবারও আমাদের সচকিত করছে। নতুন উদ্দীপনায় অকৃত্রিম দেশাত্মবোধে আমাদের জাগিয়ে রাখতে মাসটির যে গুরুত্ব ও শোকাবহ আবেদন তাকে সামনে রেখেই ৩১ জুলাই উদ্বোধন করা হলো ২০ মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ বইমেলা। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই দীর্ঘতম বইমেলাটি উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ‘বঙ্গবন্ধুকে জানো, দেশকে ভালবাসো’ এমন অমৃত বাণীকে সামনে রেখে যে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয় আগামী ২০ মাস
শোকের মাস

শোকের মাস

আগস্ট বাঙালীর শোকের মাস, বেদনার মাস। ইতিহাসে রক্তের আখরে লেখা শোকাবহ মাস আগস্ট। আজ আগস্টের প্রথম দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের এই পৈশাচিক হত্যাকা- ঘটে। সেদিন ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে, যা বিশ্ব ইতিহাসের যে কোন বর্বর হত্যাকা-কে হার মানায়। ১৫ আগস্ট শুধু একজন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি ঘৃণ্য নরপশুরা, তারা একে একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে। জঘন্যতম এ হত্যাকা- থেকে রক্ষা পাননি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি, বেগম আরজু মণি, কর্নেল জামিলসহ ১৬ জন। ঘাতকদের নিক্ষেপিত গোলায় মোহাম্মদপুরে মারা যায় কয়েক সাধারণ নারী-পুরুষও। এসব হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শ ও চেতনাক