সম্পাদকীয়

জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে

জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে

জাতি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সন্ত্রাসী দল জামায়াতের নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য সুদীর্ঘকাল অপেক্ষা করছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, জামায়াত নিষিদ্ধের মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। আশা করি, কোর্টের রায় খুব শীঘ্রই যদি হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াত বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিপুলভাবে খুন, ধর্ষণ, লুঠতরাজ, অগ্নিসংযোগে মেতে উঠেছিল। মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের পরিকল্পক ও নির্দেশনাদানকারী দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ হয়নি এখনও, এমনকি তাদের বিচারও এখন পর্যন্ত শুরু করা যায়নি। একটি উদ্যোগ অবশ্য নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রায় সাড়ে চার বছর আগে। জামায়াতের বিচারের জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। কিন্তু আইনী জটিলতার কারণেই সে উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। নবগঠিত সরকার এখন আবার আইন সংশোধনের উদ্যো
জনবান্ধব পুলিশ

জনবান্ধব পুলিশ

রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের দ্বারা যেন কোন নিরীহ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই পুলিশ বাহিনী। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের পুলিশ বাহিনীকে সর্বদাই আইনের রক্ষকের ভূমিকায় জনবান্ধব হিসেবে অবতীর্ণ হতে হবে। জনসাধারণের সমস্যাকে দেখতে হবে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে পুলিশকে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বাধিক। উল্লেখ্য, জনবান্ধব পুলিশের বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের পুলিশ অনেকাংশেই জনবান্ধব ও হিতকারী, অন্তত পাকিস্তানী এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের চেয়ে তো বটেই। তাদের সীমিত জনবল, আধুনিক পর্যাপ্ত যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্রের অ
ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করুন

ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করুন

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে আমরা কী খাচ্ছি, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। জীবনধারণের জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্যও প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য। বিশুদ্ধ খাদ্য সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিশুদ্ধ খাবার প্রাপ্তি যে কত কঠিন, তা সবারই কমবেশি জানা আছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা একেবারে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। খাদ্যপণ্যে ভেজালের কারণেই দেশে বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিওর, হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানি—এগুলো অনেক বেড়ে যাচ্ছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে দেশে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার, কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ। এ ছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বি
নদ-নদী জীবন সত্তা

নদ-নদী জীবন সত্তা

সম্প্রতি তুরাগ নদকে লিগ্যাল পারসন, জুরিস্টিক পারসন বা জীবন সত্তা অভিহিত করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। জীবন সত্তা ঘোষণা করায় একজন মানুষ যেমন আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পান, তেমনি নদ-নদীরও আইনগত প্রতিষ্ঠার সুযোগ হলো দেশে। দেশে নদ-নদীকে জীবন সত্তা ঘোষণার রায় এই প্রথম। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে নিউজিল্যান্ড নদ-নদীকে জীবন সত্তা ঘোষণা করে আইন পাস করেছে। গঙ্গা-যমুনাকে জীবন সত্তা ঘোষণা দিয়ে রায় দিয়েছে ভারতের আদালত। তাই নদ-নদীর জীবন প্রবাহ রক্ষা করতে হলে দেশের অবশিষ্ট নদ-নদীগুলোকেও জীবন সত্তা ঘোষণা করা অপরিহার্য। কেননা, অবৈধ বিত্তবান ও ক্ষমতাবানদের দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতিদিন কম বেশি নদী দখল হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার ফলে নদী সংকুচিত হয়ে পড়ছে ক্রমশ। অনেক ক্ষেত্রে এমনকি প্রবাহও অবরুদ্ধপ্রায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর সন্নিকটে তুরাগ নদকে লিগ্যাল পারসন বা জীবন সত্তা আখ্যায়িত করেছে হাইকোর্ট
গ্রন্থমেলা, কবিতা উৎসব

গ্রন্থমেলা, কবিতা উৎসব

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন রাজধানীতে দুটি উৎসবের সূচনা ঘটে- মহান একুশে গ্রন্থমেলা ও জাতীয় কবিতা উৎসব। বরাবরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় গ্রন্থমেলা। আর কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সংলগ্ন মাঠে। গ্রন্থমেলা আয়োজিত হয়ে থাকে মাসব্যাপী এবং কবিতা উৎসব হয়ে থাকে দু’দিনব্যাপী। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৮৭ সালে দেশের প্রগতিশীল কবিবৃন্দ যখন জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করেন, সে সময় উৎসবের দিন নির্ধারণ করা হয় ভাষার মাসের সূচনা দিবসটি স্মরণে রেখে। এবারের ৩৩তম জাতীয় কবিতা দিবসের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শুভ’ শক্তির জয় হয়েছে। অশুভ শক্তির পরাজয় হয়েছে। যা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে ধারাবাহিকতা চলছে তা অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। সে প্রেক্ষিতে এবারের উৎসবের মূলমন্ত্র- ‘জয় বাঙালীর
গণঅভ্যুত্থানের অর্ধশতক

গণঅভ্যুত্থানের অর্ধশতক

‘রক্ত যখন দিলাম ঢেলে, রক্ত আরও দেবোই, বীর জনতার ন্যায্য দাবি আদায় করে নেবোই।’ রক্ত যেমন ঢেলেছিল, তেমনি দাবিও আদায় করে নিয়েছিল বাংলার তরুণ ছাত্রসমাজ। প্রতিবাদ, প্রতিরোধের অগ্নিমশাল জ্বেলে ওরা রাজপথ জনপদ কাঁপিয়ে তুলেছিল, ক্ষমতাসীনদের ‘তখতে তাউস’ তথা সিংহাসন উপড়ে ফেলার জন্য স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত করেছিল আকাশ-বাতাস। সারা বাংলার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্র-যুবাদের আহ্বানে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন। দেশবাসী জানত আইউবশাহীরা শেখ মুজিবকে ফাঁসিতে ঝোলাবে। কারণ তারা উপলব্ধি করেছিল, সকলকে বশে আনা যায়, কিন্তু শেখ মুজিবকে নয়। আইউবও চেয়েছিল এই কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে। ছয় দফার প্রতি বাঙালীর ক্রমশ অকুণ্ঠ সমর্থন জান্তাদের ভীত করে তুলছিল। ছয় দফার আলোকে ছাত্রসমাজ ঘোষণা করে ১১ দফা। ডাকসুসহ চারটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯-এর চার জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত
উপজেলা নির্বাচন

উপজেলা নির্বাচন

বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী মার্চেই আবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা সেহেতু উপজেলা নির্বাচন করার জন্য মার্চকে সঠিক সময় হিসেবে ভাবা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, কোন উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয় না। তাই এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্ব বহন করে এবং প্রার্থীদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকে। বিএনপি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হবে। যে কারণে স্থানীয় নির্বাচন
শেখ হাসিনাতেই ভরসা

শেখ হাসিনাতেই ভরসা

অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আবারও প্রমাণ করল ভরসা শেখ হাসিনাতেই। জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ঘিরে নানা ঘটনা ঘটেছে। হয়েছে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। প্রথমে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা, পরে অংশগ্রহণমূলক করে প্রতিদিন নানা নাটকের অবতারণা, বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে ধরনা। অবশেষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার সুপরিকল্পনা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশল, দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে দেশকে আরেকটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিলেন। বিজয় হলো গণতন্ত্রের, বিজয় হলো শেখ হাসিনার, বিজয় হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার, বিজয় হলো উন্নয়নের, বিজয় হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। এ নির্বাচনে দেশে অনেক নতুন ধারার সংযোজন হয়েছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, শিল্পী-সাহিত্যিক, কবিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রচারে অংশগ্রহণ
দারিদ্র্য দূরীকরণ

দারিদ্র্য দূরীকরণ

বাংলাদেশে দরিদ্রের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের গত দশ বছরে নেয়া নানা উদ্যোগ আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ঘটছে দ্রুত। বিশ্বের সামনে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশ যে এক অনুকরণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে বহুমাত্রিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, বিশ্বের অন্য উন্নয়নশীল দেশের উচিত কীভাবে দারিদ্র্য দূর করতে হয়, তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশটি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশের এই ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ জাতিসংঘকেও বিস্মিত করেছে। অবশ্য ষোলো কোটির বেশি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে তিন কোটি এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আবার এর মধ্যে এক কোটি মানুষ অতি দরিদ্র। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও দারিদ্র্য দূরীকরণ এখনও সরকারের মূল লক্ষ্য। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করত
অম্লান ১০ জানুয়ারি

অম্লান ১০ জানুয়ারি

‘বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে তোমার স্বাধীন সোনার বাংলায়’- বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বেতার থেকে বেজে উঠেছিল এই গান। কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠ থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে সেই ৪৬ বছর আগে। বাঙালী জাতির ইতিহাসে তাই ১০ জানুয়ারি একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ৮ জানুয়ারি মুক্ত হয়ে লন্ডন, দিল্লী হয়ে এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তাঁর আগমনের মধ্য দিয়ে হানাদারমুক্ত দেশে মানুষের শুরু হয়েছিল এক নতুন অভিযাত্রা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাদের হাতে বন্দী হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁকে থাকতে হয় পাকিস্তানের কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে। এ সময় প্রতি মুহূর্তে তাঁকে প্রহর গুনতে হয়েছে মৃত্যুর। তবে বাঙালী জাতি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালনে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেনি। তারা স