সম্পাদকীয়

বর্ষায় বড় দুশ্চিন্তা

বর্ষায় বড় দুশ্চিন্তা

বর্ষা এসেছে প্রকৃতির নিয়ম মেনে। পঞ্জিকার দিনক্ষণ হিসাব করে অনেকেই মেতে উঠেছেন রোমান্টিকতায়। বাঙালী কিছুটা আবেগপ্রবণ জাতি। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই বর্ষাবন্দনার জোয়ার লক্ষ্য করা যায়। কবিগুরু বলে গেছেন, এমন দিনে তারে বলা যায়। ফলে মনের ঝাঁপি খুলে কথা বলতে ইচ্ছে করে বহুজনের। কিন্তু যারা বাস্তববাদী, প্রতিদিন জীবিকার জন্য ঘরের বাইরে বের হতে হয়, তাদের কাছে বর্ষাকাল রোমান্টিকতার নয়, বরং বিপন্নতার সঙ্কেত। বর্ষায় জলাবদ্ধতা রাজধানীর একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার শুরুতেই গণমাধ্যম আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৮ এলাকা জলাবদ্ধতাপ্রবণ। আমরা অভিজ্ঞতায় দেখি, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী ঢাকা ডুবতে বসে। এ বিষয়ে দুই মেয়র, ওয়াসার এমডি, এমনকি মন্ত্রী মহোদয় পর্যন্ত অনেক আশার বাণী শুনিয়েছেন; কথা দিয়েছেন দুর্দশা লাঘবের। কিন্তু পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। তাই কবির ভাষায় বলতে হয়- কেউ
বিজ্ঞান শিক্ষায় ভীতি!

বিজ্ঞান শিক্ষায় ভীতি!

দেশে গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে শীর্ষক সংবাদটি উদ্বেগজনক বৈকি। বাস্তবতা হলো আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক অবহিত না হলে আমরা কোনদিনও একটি বিজ্ঞানমনস্ক এবং সংস্কারমুক্ত জাতি হিসেবে গড়ে উঠে বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারব না। মনে রাখতে হবে যে, বর্তমানে যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং পৃথিবীর কক্ষপথ পরিক্রমণ করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, তখন আর বিজ্ঞান শিক্ষায় আমাদের পিছিয়ে পড়া বা থাকার আদৌ কোন সুযোগ নেই। এও মনে রাখতে হবে যে, বর্তমান সরকার একটি আধুনিক উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারে সর্বদাই আগ্রহী ও উদ্যোগী। বিজ্ঞান গবেষণার ব্যাপারেও সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে পাশে দাঁড়ায় বিজ্ঞানীদের। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায়
সামাজিক সুরক্ষা

সামাজিক সুরক্ষা

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা ও বক্তব্য প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে গণমাধ্যমে। তবে এখন পর্যন্ত যা জনসাধারণের সবিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে তা হলো, বর্তমান গণমুখী সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সম্প্রসারণ। এর আওতায় দরিদ্র ও বঞ্চিত সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও অন্তত ১৩ লাখ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এতে সুবিধা পাবেন প্রায় ৮৯ লাখ দরিদ্র মানুষ। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর আওতায় সুবিধা ভোগ করছেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভোটার সন্তুষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে আরও ১৩ লাখ দরিদ্রকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যাদের নিয়ে আসা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অগ্রাধিকার দেয়া হবে প্রবীণদের। এর মধ্যে অন্যতম বয়স্ক ভাতা কর্মসূচী। এর আওতায় আরও ৪ লাখ প্রবীণকে দেয়া হবে বয়স্ক ভাতা
সমুদ্র দূষণ ও সম্পদ

সমুদ্র দূষণ ও সম্পদ

জাতিসংঘের একটি সমীক্ষা বলছে, প্রতি বছর ৫০ লাখ থেকে দেড় কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর একটা বড় অংশ যায় মাছ ও সামুদ্রিক পাখিদের দেহে। এমনকি সমুদ্রের তলদেশে থাকা প্রাণীদের শরীরেও প্লাস্টিকের সন্ধান মিলেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) মতে গাড়ির টায়ার ও বিভিন্ন টেক্সটাইল কারখানা থেকে নিঃসৃত ছোট ছোট প্লাস্টিকের বর্জ্য বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্র দূষণের মূল কারণ। মোট দূষণের প্রায় ৩০ শতাংশই প্লাস্টিকের কারণে হয়ে থাকে। অথচ আমরা যে অক্সিজেন গ্রহণ করি তার অর্ধেকই উৎপাদন করে সমুদ্র, অর্থাৎ সমুদ্রের শৈবাল এবং ফিটোপ্লাঙ্কটন নামক এককোষী উদ্ভিদ। সাগর আমাদের আবহাওয়ামন্ডল থেকে পঞ্চাশ গুণ বেশি হারে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস করে থাকে। সাগরের বৈচিত্র্য এবং উৎপাদনশীলতা সমগ্র মানবজাতির জন্য অপরিহার্য। আমাদের প্রয়োজনেই সাগরকে সুরক্ষা দিতে হবে। ৮ জুন ছিল
এটিএম-এ অভিনব জালিয়াতি

এটিএম-এ অভিনব জালিয়াতি

আজকের প্রজন্ম চেক কেটে ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে লাইন দিয়ে অপেক্ষায় থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তোলার সময় ব্যয় ও বিড়ম্বনা সম্পর্কে হয়তো অবগতই নয়। এখন টাকা তোলা কত সোজা। অটোমেটেড টেলার মেশিনের (এটিএম) বুথে কার্ড ঢুকিয়ে বোতাম টিপে এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যে টাকা তোলা সম্ভব। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও আবাসিক এলাকার কাছাকাছি, এমনকি অনেক গ্রামাঞ্চলে মানুষের একেবারে হাতের নাগালেই কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকের এটিএম বুথ স্থাপন হওয়ায় অর্থ উত্তোলনে খুবই সুবিধা হয়েছে। প্রযুক্তির শুধু সুফল পাবে মানুষ, এমন তো নয়। কিছু কিছু কুফলে পা আটকে যায়- এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কতিপয় ক্রিমিনাল বা অপরাধীর কারণেই। বিগত বছরগুলোয় অনেক বুথে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যাতে গ্রাহকদের নিরাপত্তাও হয়েছে হুমকির সম্মুখীন। শুধু গ্রাহক নয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষও দুর্বৃত্তের দুষ্কর্মের শিকার হয়েছে। এটিএম বুথে টাকা লোড করার সময় লুটেরারা আক্রমণ চাল
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর

প্রতিবছরের মতো আবারও এসেছে ঈদ-উল-ফিতর, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ-উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এসেছে খুশির এই উপলক্ষটি। ঘরে ঘরে, জনে জনে আনন্দ ও খুশির বার্তা বয়ে এনেছে এই ঈদ। দিনটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলকে এক কাতারে শামিল করার চেতনায় উজ্জীবিত করে। কল্যাণের পথে ত্যাগ ও তিতিক্ষার মূলমন্ত্রে দীক্ষিত করে। ঈদের আগে রোজার একটি মাস সংযম ও আত্মত্যাগের মাস। রোজার কঠোর অনুশীলন ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি এবং গরিব-দুঃখী-অনাহারীদের কষ্ট অনুভবের প্রেরণা দেয়। এ সময় গরিব-দুস্থদের ঈদের আনন্দে শরিক করার জন্য রয়েছে ফিতরা ও জাকাতের ব্যবস্থা, যা বিত্তবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য অবশ্য প্রদেয়। ঈদের নামাজের ভেতর দিয়ে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হয়। নতুন পোশাক পরে সকালে ঈদগাহে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচী। ধনী-দরিদ্র সবাই এই দিন মেতে ওঠে আনন্দে-উৎসবে। ঈদ-উল-ফিতরের মূল তাৎপর্য বিভ
লাইলাতুল কদর

লাইলাতুল কদর

পবিত্র রমজান মাস বিশ্বের মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমত ও বরকতের মাস। রমজান মাসের এক বিশেষ রাত লাইলাতুল কদর বা শব-ই-কদর, মহিমান্বিত রজনী। পবিত্র শব-ই-কদরে কোরান শরীফ নাজিল হয়েছিল। বিভিন্ন হাদিসের ভিত্তিতে এমনটি বিশ্বাস করা হয় যে, রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে মহিমান্বিত এই রাত অর্থাৎ শব-ই-কদর নিহিত রয়েছে। আর সে কারণেই ধর্মপ্রাণ মানুষ রোজার মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হন। তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ২৬ রমজান রাত অর্থাৎ ২৭ রমজানের রাতটিই সেই পুণ্য মহিমান্বিত রজনী, যে রাতের সংবাদ মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা)কে দিয়েছেন। মুমিন মুসলমানদের জন্য এ রাতটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই রাতে যিনি নিজেকে যত বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে নিয়োজিত রাখবেন, তিনি তত বেশি সওয়াব হাসিল করবেন। ফজিলতের দিক থেকে এ রাতকে হাজার রাতের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। লাইলাতুল কদরের মহিমা ও তাৎপ
নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা

নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা

সিয়াম সাধনার মাস রমজানের মাঝামাঝি থেকেই ঈদ উৎসবের যে আমেজ জনগোষ্ঠীর মাঝে সাড়া জাগায় তার সর্বশেষ অবস্থা দৃশ্যমান হয় ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘযাত্রাপথ পাড়ি দেয়ার মাধ্যমে। ঈদযাত্রার শুরুতেই প্রথম ধাপ কষ্ট পোহাতে হয় টিকেট সংগ্রহের মধ্য দিয়ে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে যাত্রার যে লক্ষ্যমাত্রা সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়ম ও বিধিতে টিকেট বিক্রি শুরু করে। আগাম টিকেট বিক্রির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও হরেকরকম বিপত্তিও মোকাবেলা করতে হয় যাত্রীদের। সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা, কিছুক্ষণের মধ্যে টিকেট শেষ বলে কর্তৃপক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়া ঈদযাত্রার এক মহাবিড়ম্বনা। এরপর কালোপথে চড়া দামে টিকেট কেনা সেও এক অলিখিত নিয়ম। সরকার প্রতি বছর ঈদ উৎসবে যারা শেকড়ের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি যেতে চায় তাদের ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত পরিবহন সংযুক্ত করে। তারপরও কিছু অসাধু চক্র টিকেট সঙ্কট তৈরি করে তাদের রমরমা
লোহার খনি

লোহার খনি

মানব সভ্যতার ইতিহাস ও অগ্রগতিতে আদিম যুগের পর্যায়ক্রমে লোহা, ব্রোঞ্জ, তামা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের আবিষ্কার ও উত্তোলন যে অসামান্য অবদান রেখেছে। তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের বর্তমান অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গ্যাস এবং কয়লার অবদান কম নয় কোন অংশে। এবার লোহা বা লৌহ খনির সন্ধান পাওয়া গেল দিনাজপুরে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নে প্রাপ্ত লোহার খনির আয়তন ও মজুদ নির্ণয়ে এখন চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ড্রিলিংয়ের কাজ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানে ৭৩ শতাংশ আকরিক লোহাসহ মূল্যবান খনিজ পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, দিনাজপুরে ইতোমধ্যেই ৪টি খনির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ৩টি কয়লা খনি ও একটি পাথরের খনি। পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এবং মধ্যপাড়া কঠিন শিলা তথা পাথর খনি থেকে উত্তোলন চলেছে এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরু
একাদশে ভর্তি

একাদশে ভর্তি

পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ক্রমশ। কিছুদিন আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই দেশব্যাপী একটা তোড়জোড়, হৈ-হট্টগোল পড়ে যেত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য। তখন এটাকে নিছক ভর্তি না বলে ‘ভর্তিযুদ্ধ’ বলাই অধিকতর সঙ্গত হতো। ভাল একটি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক থাকতেন প্রবল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। কলেজগুলোতে পড়ে যেত সাজ সাজ রব ও অসম প্রতিযোগিতার ছড়াছড়ি। অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া তথা ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন শুরু হওয়ায় এই জট, জটিলতা, উদ্বেগ ও উত্তাপ কমে এসেছে অনেকাংশে। এবারে কোন দৌড় ঝাঁপ ও বিড়ম্বনা ছাড়াই রাজধানীসহ সারাদেশে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ জন। উল্লেখ্য, মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের মধ্যে এবার দুই লাখ ৪২ হাজার ৪২ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য প্রথম ধাপে আবেদন করেনি। গত বছর প্রথম ধাপে আবেদনের বাইরে ছিল প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী। সঙ্গত কারণেই যে প্রশ্নটি