সম্পাদকীয়

প্রত্যাশিত রায়

প্রত্যাশিত রায়

‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’- এমনটি বোধহয় আর বলা যায় না দেশের আদালত তথা বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে। বর্তমান সরকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পর দেখা যাচ্ছে যে, কিছু বিলম্ব হলেও অনেক মামলার বিচার হচ্ছে। প্রত্যাশিত রায়ও পাওয়া যাচ্ছে। এমনই দুটি মামলার রায় হলো চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলার রায় এবং রাজধানীর পল্টনে সিপিবির সমাবেশে জঙ্গীদের বোমা হামলার রায়। চট্টগ্রামে গণহত্যার ঘটনাটি ঘটে ৩২ বছর আগে তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রয়াত জেনারেল এরশাদের আমলে। এরশাদ সরকারের পতনের দাবিতে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগসহ ১৫ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবচেয়ে দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হলো, এ সময় আদৌ কোন কারণ বা উস্কানি ছাড়াই উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা সমবেত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে নেতাকর্মীসহ নিহত
কমিউনিটি ক্লিনিকের অগ্রযাত্রা

কমিউনিটি ক্লিনিকের অগ্রযাত্রা

যে কোন কর্মযোগে চাই সঠিক জ্বালানি, প্রেষণা ও প্রেরণা। কর্মীবলকে বঞ্চিত রেখে সম্ভব নয় কর্মপরিধি বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো সহযোগী ও সমান্তরাল একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম গতিজড়তা কখনই কাম্য ছিল না। এজন্য আইনের প্রয়োগ ছিল প্রত্যাশিত। শেষ পর্যন্ত মার্চের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনের বাস্তবায়ন শুরুর সংবাদ সংশ্লিষ্টদের স্বস্তি দেবে। আইনটির বিধি-প্রবিধি তৈরি করার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে হেলথ প্রোভাইডাররা দেশে প্রচলিত অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায় তাদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরভাতাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ শুধু দূর হওয়াই নয়, গতি আসবে কাজেও। উল্লেখ্য, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্র
প্রাথমিকে পোশাক জুতা ব্যাগ

প্রাথমিকে পোশাক জুতা ব্যাগ

২০২০-২১ সালকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ হিসেবে। তেমন উৎসব আর আয়োজনকে সামনে রেখে হরেক রকম প্রকল্পও কার্যকর করার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সূচকে গত দশ বছরে সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক কর্মপ্রবাহকে যুক্ত করে শিক্ষা ব্যবস্থার মান বাড়ানো সরকারের একটি নিরন্তর কার্যক্রম। বিশেষ করে প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষুদে প্রজন্মের জ্ঞানের ভিত্তি গড়তে আধুনিক সব ধরনের বিদ্যা অর্জনকে সমধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিতেও শিশুদের পারদর্শী করে তুলতে সরকারী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ থেকে শুরু করে উপবৃত্তি প্রদানও এক অবিস্মরণীয় কর্মদ্যোতনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে আরও স্মরণীয় করতে এসব শিশু এবার পাবে স্কুল ব্যাগ, পোশাক এবং জুতা। সেই লক্ষ্যমাত্রায় বছরের শুরুতে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্র
ধর্ষণ ও দুর্ঘটনা

ধর্ষণ ও দুর্ঘটনা

ইদানীং পত্রপত্রিকার পাতা খুললেই যে দুটো বিষয় সর্বাগ্রে চোখে পড়ে তা হলো, ধর্ষণ ও সড়ক দুর্ঘটনা। আরও যা দুঃখজনক ও রীতিমতো উদ্বেগের তা হলো, এ দুটোই ক্রমবর্ধমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং আদালতের নজরদারি সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত প্রতিকার ও প্রতিবিধান মিলছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনা এবং ধর্ষককে গ্রেফতার করতে না করতেই চলন্ত বাসে আবারও নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ধামরাইয়ে শুক্রবার ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্ষিত হন এক নারী শ্রমিক। পড়ে তাকে হত্যা করে ফেলে দেয়া হয় রাস্তার পাশে। চালককে অবশ্য গ্রেফতারের খবর আছে। অন্যদিকে রাজধানীর রামপুরায় এক মেসে বাবুর্চি কর্তৃক ধর্ষিত হন দুই নারী। একই দিনে নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগও স্থান পেয়েছে গণমাধ্যমে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে দেশে ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের ম
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ

জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য লেজার শোর মাধ্যমে এবার দেশব্যাপী পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। অবশ্য এর যৌক্তিক কারণও আছে বৈকি। চলতি বছরের ১৭ মার্চ সাড়ম্বরে দেশে ও বিশ্বব্যাপী পালিত হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সেদিন থেকে আয়োজন করা হবে নানা উৎসব আয়োজন-অনুষ্ঠান। এর পরের বছরই পালিত হবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অমল ধবল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব। এ বিষয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই যে, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ সর্বোপরি স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা, মূলত এক ও অভিন্ন, অবিচ্ছিন্ন ও চিরকালীন। বিশ্বের বুকে যতদিন বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতি সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে, ততদিন বৈশ্বিক ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম-ঠিকানা মুছে ফেলা যাবে না। বরং লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে, যা জ্বল জ্বল করে প্রজ্বলিত থাকবে চিরদিন, চিরকাল, অনন্তকালব্যাপী। আর তাই বঙ্
এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭৫ সালের সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার রক্তাক্ত ঘটনাকে স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুর আকাক্সিক্ষত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তৈরির সম্ভাবনাময় পথযাত্রাকে। হরেক রকম কর্মপ্রকল্পে সাজানোর রূপরেখাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০২০ সালের তাৎপর্যকে জাতির জন্য উৎসব আর আয়োজনের এক মহাপরিকল্পনা অভিহিত করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানান। মুজিববর্ষ উদযাপনের শুভবার্তাই হলো জনগণের মধ্যে নতুন জাগরণী শক্তি উজ্জীবিত করা, যাতে দেশ উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান ধারায় ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, আগামীতে তা আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কৃষকবান্ধব কৃষি অর্
দুর্ঘটনা, প্রাণহানি বাড়ছেই

দুর্ঘটনা, প্রাণহানি বাড়ছেই

সড়ক দুর্ঘটনা ঢাকাসহ সারা দেশের একটি করুণ ও মর্মস্পর্শী আখ্যান। কত মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে যায়, যার হিসাব কষতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। অগণিত আহত মানুষের জীবনের স্বচ্ছন্দ গতি অনিবার্যভাবে ছেদ পড়াও দৃষ্টিকটুভাবে দৃশ্যমান। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে সড়ক পরিবহনের আইনী বিধি-বিধান ছাড়াও গণমানুষের সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিকে ছাপিয়ে জানমালের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃহদাকার ভারি যান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পরিবহনগুলো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে বলে মনেও হয় না। সাধারণ পথচারীদের পদচারী সেতু থাকা সত্ত্বেও চলমান পরিবহনের ফাঁকফোকড়ে রাস্তা পারাপার একটি নৈমিত্তিক চিত্র। সারা বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র এবারও ভয়াবহ এবং মর্মান্তিক, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে বলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যেভাবে দুর্ঘটনা বেড়েছে, একই গতিতে প্রাণহানিও সংঘটিত হয়েছে। নির
বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব গত এক দশকে তেমন দৃশ্যমান না হলেও চলতি বছরে তা প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক গবেষক, বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে নিম্নগতি, তা বাংলাদেশের ওপরও ফেলতে পারে নেতিবাচক প্রভাব। বিশ্ব অর্থনীতির দুরবস্থার প্রতিবেদন উঠে এসেছে দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশনের (ওইসিডি) তথ্যে। সারা বছরই বিশ্ব বাণিজ্যের অসম প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক বলয়ে যে সঙ্কট তৈরি করে সেখানে বাংলাদেশও কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংঘাত সব দেশের জন্য যে টানাপোড়েন তৈরি করেছে, বাংলাদেশও অনিবার্যভাবে তা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংঘাতের অশুভ পাঁয়তারার জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর আর্থিক সূচকে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সঙ্ক
প্রযুক্তির বিস্ময়

প্রযুক্তির বিস্ময়

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষেরই আবিষ্কার। এখন বিজ্ঞান-প্রযুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে সংযুক্ত থেকে এমন সব উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাচ্ছে যে তাতে এক উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক ছাড়া বিশ্বের বাদবাকি মানুষই বিস্ময় মানছে। মানুষের কল্পনাকেও যেন ছাড়িয়ে যেতে বসেছে একেকটি উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ। বলাবাহুল্য, প্রযুক্তির নিত্য উৎকর্ষ দাক্ষিণ্যে পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ। বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন আবিষ্কারে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে আমাদের জগত। প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে দেশ, বদলে যাচ্ছে গতানুগতিকতা, পরিবর্তন ঘটছে মানুষের জীবনধারায়। মানুষের জীবন সহজ, আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে প্রযুক্তি অবদান রাখছে বড় মাত্রায়। জীবনের মুখ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তির খোঁজ করে চলেছেন। মানুষের প্রয়োজনে অবিকল মানুষেরই মতো যন্ত্রমানব (রোবট) যখন বিজ্ঞানাগারেই উৎপন্ন হলো, মানুষ চমকে উঠেছিল। মানুষের সহযোগী অবস্থানে থেকে এই
বিদায় ২০১৯

বিদায় ২০১৯

ইংরেজী নতুন বর্ষের হাতছানি বাঙালীর ঘরে ঘরে। আগামীকাল নতুন বর্ষ ২০২০-কে বরণ করতে প্রস্তুত সবাই। আজ ২০১৯ সালের শেষ দিন। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাসহ সারাদেশে খ্রিস্টীয় বছর শেষের রাতকে উপভোগ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ক্লাবগুলোতে এ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তারকাখচিত হোটেলগুলোর পাশাপাশি ছোট পরিসরেও আয়োজন করা হয়েছে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের। হোটেল, রেস্তরাঁয় রকমারি খাবার-দাবারেরও আয়োজন রয়েছে। এবারও বর্ষ বিদায়ের রাতটিকে উদ্যাপন করতে নগরজুড়ে নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। নতুনবর্ষ উদযাপনে আরোপ করেছে কিছু শর্ত। নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে পুলিশ-র‌্যাবের সর্বক্ষণিক টহল। পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত বাহিনীও। নিকট অতীতে হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলা, শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে জঙ্গী হামলা, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, কল্যাণপুর, পল