সম্পাদকীয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

বুধবার জাতীয় সংসদে তিনটি বিল পাস হয়। এগুলো হলো : ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮, সড়ক পরিবহন বিল ২০১৮ এবং কওমি মাদ্রাসার স্নাতকোত্তর স্বীকৃতি সংক্রান্ত একটি বিল। তিনটি আইন পাস হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন নিয়ে বেশি সরব হয়েছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। ডিজিটাল নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনে পুলিশকে পরোয়ানা এবং কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আইনটিতে যুক্ত করা হয়েছে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস এ্যাক্ট’। এ সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হলে তার জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। আইনের একটি ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধী জামিন পাবেন না। অর্থাৎ অপরাধটি হবে জামিন অযোগ্য। বিশ্বের যে কোন জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোন নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয় এমন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি ছিল বহুল আলোচ
কোটা বিলুপ্ত

কোটা বিলুপ্ত

কয়েক মাস আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারী চাকরিতে কোন কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে সরকারী কমিটি। এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কোটা বহাল থাকবে। এই সুপারিশ ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা এই সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। কেননা, যে কোন একটি বিষয় আইনে পরিণত করতে হলে তা যাচাই-বাছাইসহ কিছু প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন, সচিব কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রশাসনিক
মিকবান্ধব আইন

মিকবান্ধব আইন

শ্রমজীবী মানুষের জীবনে দুবেলা-দুমুঠো খাবার নিশ্চয়তার বাইরে স্বাচ্ছন্দ্য ও কর্মনিরাপত্তা অধিকতর প্রয়োজন। সুযোগ-সুবিধার দিগন্তগুলো তাদের জন্য বিদ্যমান থাকা অত্যন্ত জরুরী। কেবল কায়িক শ্রমের যোগান দিয়ে যাওয়া নয়, সেই শ্রম প্রদানে শারীরিক ও মানসিক শক্তিমত্তা বহাল রাখাও সঙ্গত। শ্রমিকদের জন্য শ্রমবান্ধব এবং সুশৃঙ্খল মালিক-শ্রমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানও হয় লাভজনক। যা উভয়ের জন্যই অতীব দরকার। শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। ২০০৬ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে ব্যাপক সংশোধন করা হয়। যাতে ৩৫৪টি ধারা রয়েছে। সর্বশেষ এবারের সংশোধনে নয়া দুটি ধারা, চারটি উপধারা ও আটটি দফা সংযোজন, ছয়টি উপধারা বিলুপ্ত ও ৪১টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্ব শ্রম সংস্থার সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শ্রমবান্ধব নীতি
ইলিশের জীবনরহস্য

ইলিশের জীবনরহস্য

পাটের পর এবার জাতীয় মাছ সুস্বাদু ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন বিজ্ঞানী পৃথকভাবে গবেষণা করে প্রায় একই সময়ে এই সাফল্য লাভে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে ইলিশের ডিএনএ বা কৌলিক বৈশিষ্ট্যের সব তথ্য হাতে এসেছে বিজ্ঞানীদের। ইলিশ মাছের জীবনচক্র ও জীবনরহস্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানার ফলে এই মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সফল হবে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, জিন সিকোয়েন্স বা জিনোম হচ্ছে কোন জীবের, তা সে উদ্ভিদ বা প্রাণী যাই হোক না কেন, পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের অঙ্গ সংস্থান, জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোসহ সব জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় জিনোমে সংরক্ষিত নির্দেশনা থেকে। উল্লেখ্য, বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ হয় বাংলাদেশে এবং দেশের মোট উৎপাদনের ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ইতোমধ্যে আন
নির্বাচন হবেই

নির্বাচন হবেই

সামনে যাই থাক, আসুক যতই প্রতিবন্ধকতা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে যথাসময়েই। নির্বাচন বানচাল, ভ-ুল, ব্যাহত করার জন্য হোক যতই ষড়যন্ত্র, সব বাধাবিঘœ ভেঙ্গে যথারীতি নির্বাচন হবেই। দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে ভোট দেবে। কারণ ভোটের মাধ্যমেই তারা তাদের পছন্দের জনপ্রিতিনিধিকে নির্বাচিত করার যে সুযোগ এবং বিধান রয়েছে, তার ব্যত্যয় ঘটকু, তারা তা চায় না। শত প্রতিকূলতা, শত বাধাবিঘœ অতিক্রম করে যাবে নির্বাচনী ট্রেন। এমনিতে নির্বাচন এলেই একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা ভুলে যায়, নির্বাচন এলেই জনগণের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পুরো দেশবাসী জেগে ওঠে এক অন্যতম আমেজে। পক্ষ-বিপক্ষের খেলায় মেতে ওঠে জয়-পরাজয়ের অনুষঙ্গে। অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয় সকলেরই কাম্য হয়ে ওঠে তখন। নতুন প্রাণ পায় ভোটার। তারা জানে ভোটদান তাদের অধিকার। ভোটের মালিক তারা। তাদের ভোট প্রদানেই নির্ধারিত হবে ক্ষমতায় আসবে কোন দল, কা
ক্ষতিকর শব্দদূষণ

ক্ষতিকর শব্দদূষণ

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে একইভাবে শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে। বয়স্ক এবং অসুস্থরা এই শব্দদূষণের বড় শিকার। এছাড়া শব্দদূষণের ফলে সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। কারণ শব্দদূষণে মেজাজ খিটখিটে হয়, মনোযোগ নষ্ট হয়। শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৬০ ডেসিবেল। সেখানে ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখন শব্দের সার্বক্ষণিক গড় মাত্রা ১০০ ডেসিবেল। শব্দদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এটা অনেকেই জানেন না। তবে এটাও মানতে হবে এখন জনস্বার্থে সরকারী প্রচারণার কল্যাণে রাজধানীবাসীসহ বহুসংখ্যক মানুষ শব্দদূষণের ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। দুঃখজনক হলো সচেতন হলেও সতর্ক নন, আবার অনেকেই শব্দদূষণের জন্য দায়ীও বটে। শব্দদূষণ সৃষ্টি করা হলে যিনি এটা করেন তিনিও একই ক্ষতির শিকার হবেন। বলাবাহুল্য, উচ্চ শব্দে বা জোরে আলাপচারিতা চালানোর প্রবণতা রয়েছে
হতদরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা

হতদরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা

চলতি সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাস হতদরিদ্র ৫০ লাখ মানুষ মাত্র ১০ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতদরিদ্রদের জন্য সুসংবাদ সন্দেহ নেই। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দশ টাকা দরে চাল দেয়া। শতভাগ না হলেও গরিবদের জন্য সরকার দু’বছর আগে থেকে বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় ওই দশ টাকা দরে চাল বিতরণ করে আসছে। বিশেষ করে গত বছর সব মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতিতে পড়ি আমরা। সে সময়েও গরিব মানুষ না খেয়ে থাকেনি। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় এটি সম্ভব হয়েছে। বলা দরকার খাদ্যের চাহিদাও সম্প্রতি কিছুটা বেড়েছে। দশ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে- এটা সরকারের একটা বড় অর্জন। এ অর্জনকে ব্যাহত করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সরকারের নানা ধরনের খাদ্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন কাবিখা, ১০ টাকা
চাকরিতে প্রবেশের বয়স

চাকরিতে প্রবেশের বয়স

চাকরি, বিশেষ করে সরকারী চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। কেননা ইতোমধ্যে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, প্রায় ৭১ বছর ৬ মাস। বেড়েছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও। সেই অনুপাতে শূন্যপদের সংখ্যা বাড়ছে না। অন্যদিকে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগসহ কর্মসংস্থান বাড়লেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় অগণিত পদ খালি রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি চাকরির বয়স ‘এন্ট্রি লেবেলে’ বর্তমানের ৩০-এর পরিবর্তে ৩৫ এবং অবসরের বয়স ৬০-এর পরিবর্তে ৬৫ করার প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিচারপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়স অনরূপ। এ প্রস্তাব পুরোপুরি রক্ষিত না হলেও বিস্তারিত পর্যালোচনার পরে উভয় দিকে দুই বছর করে বাড়ানো হতে পারে। তবে অবসরের বয়স বাড়াতে হলে ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী আইন সংশোধন করতে হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি জারিরও সম্ভাবনা রয়েছে। বর
২৭১টি নতুন সরকারী কলেজ

২৭১টি নতুন সরকারী কলেজ

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা-সম্প্রসারণ কার্যক্রমে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও যুগোপযোগী এবং জনবান্ধব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবৈতনিক কর্মসূচী থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাঠ্যসূচীর আওতায় বছরের শুরুতে কোন অর্থমূল্য ছাড়া বোর্ডের বই বরাদ্দ করা গণমুখী কর্মযোগের উল্লেখযোগ্য দিক। শুধু তাই নয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতাকেও বিশেষ বিবেচনায় আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালে যে সব উপজেলায় স্কুল এবং কলেজ নেই সেখানে ১টি করে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে শুধু স্কুল-কলেজ স্থাপন করাই নয়, বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের আওতায় এনে শিক্ষা সম্প্রসারণের মতো মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এ ধরনের প্রকল্
শোকাবহ ১৫ আগস্ট

শোকাবহ ১৫ আগস্ট

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শোকসন্তপ্ত জাতি আজ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধুকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে। যাঁর গৌরবময় নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। ঘাতক দল ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর নাম ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হয়নি। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হয়েছেন সেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি এখন জাতির অন্যতম আবেগময় স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে। আর তিনি বাঙালী জাতির প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ঘাতকরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্